জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ, ৩০ মে থেকে বাংলায় শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে টিকাকরণ

জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ, ৩০ মে থেকে বাংলায় শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে টিকাকরণ

মহিলাদের মরণব্যাধি জরায়ুমুখ বা সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্যে এক বড়সড় স্বাস্থ্য অভিযানের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ৩০ মে থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই বিশেষ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাস্থ্য বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির আওতায় ১৪ থেকে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে যেকোনো কিশোরী বিনামূল্যে এই প্রতিষেধক বা টিকা নিতে পারবে।

কার্যকারিতা ও কেন্দ্রের উদ্যোগ

চিকিৎসকদের মতে, জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য মূলত দায়ী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)। সঠিক সময়ে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিষেধক গ্রহণ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই মরণব্যাধির প্রকোপ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় বাংলায় প্রথম দফায় ৭ লক্ষ ডোজ টিকা পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যের চিকিৎসাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে ন্যাশনাল হেলথ মিশনে ২ হাজার ১০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকার অনুদান ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রাজ্যে জনৌষধি কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৭টি থেকে বাড়িয়ে ৪৬৯টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে।

আক্রান্তের খতিয়ান ও অসচেতনতার ঝুঁকি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মহিলাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে সার্ভাইক্যাল ক্যানসার। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬ লাখ মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৩.৪ লাখ রোগীর মৃত্যু হয়। ভারতের প্রেক্ষাপটে এটি মহিলাদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান ক্যানসার। দেশে প্রতি বছর প্রতি লাখে ১৪ জন এই রোগে আক্রান্ত হন এবং মৃত্যু হয় ৯ জনের। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত মেদ, ধূমপান, মদ্যপান এবং একাধিক যৌনসঙ্গী থাকার কারণে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

আমাদের সমাজে লোকলজ্জার কারণে নারীদের মধ্যে যৌনাঙ্গের যেকোনো সমস্যা লুকিয়ে রাখার একটি প্রবণতা দেখা যায়। ফলে রোগটি প্রাথমিক স্তরে ধরা পড়ে না। অতিরিক্ত সাদাস্রাব, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পরেও রক্তক্ষরণ কিংবা কোমরে ব্যথার মতো উপসর্গগুলো অবহেলা করার কারণেই রোগটি শেষপর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসকদের আর কিছুই করার থাকে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই বিনামূল্যে টিকাকরণ কর্মসূচি এবং জনৌষধি কেন্দ্রের সম্প্রসারণ রাজ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হার কমাতে এবং নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *