কয়লা পাচারের নেপথ্যে এবার ১২ ব্যবসায়ী, রহস্য ফাঁসে প্রাক্তন ওসির দরজায় ইডির কড়া নাড়ানি!

কয়লা পাচারের নেপথ্যে এবার ১২ ব্যবসায়ী, রহস্য ফাঁসে প্রাক্তন ওসির দরজায় ইডির কড়া নাড়ানি!

রাজ্যে কয়লা পাচার কাণ্ডের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখতে ফের কোমর বেঁধে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই দুর্নীতি সিন্ডিকেটের রহস্য উদ্ঘাটনে এবার বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলকে পুনরায় তলব করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ইডির স্ক্যানারে রয়েছেন কলকাতার প্রায় ১২ জন ব্যবসায়ী। কৃষ্ণ কয়াল, রীতেশ সিং, লোকেশ সিং, যুধিষ্ঠি ঘোষ ও নরেন্দ্র খারকা নামের ব্যবসায়ীদের আগামী সপ্তাহেই কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলের পর কয়লা মামলার এই চরম তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

পুলিশ-মাফিয়া যোগসাজশ ও কোটি টাকার লেনদেন

আদালতে পেশ করা ইডির তদন্ত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ ও কয়লা মাফিয়াদের গভীর যোগসাজশেই রাজ্যজুড়ে রমরমিয়ে চলত এই পাচার চক্র। মাফিয়াদের অবাধে কয়লা পাচারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা প্রোটেকশন দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ নিতেন বুদবুদ থানার তৎকালীন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছাত। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই মনোরঞ্জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও ট্রানজেকশন আইডি সহ একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছেন, যা অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ ঢোকার প্রমাণ দেয়। এই দুর্নীতির জেরেই ২০২৪ সালে সাসপেন্ড করা হয়েছিল ওই পুলিশ আধিকারিককে। ইতিপূর্বে একাধিকবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসে দুর্গাপুরে তাঁর বাড়িতে ইডি হানা দিলে কাউকেই পাওয়া যায়নি, যার ফলে দরজায় নোটিস সাঁটিয়ে ফিরতে হয় আধিকারিকদের।

প্রভাব ও তদন্তের ভবিষ্যৎ

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস জমি প্রতারণা মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় কয়লা পাচার কাণ্ডে আরও এক পুলিশ কর্তাকে ঘিরে এই টানাটানি আইনশৃঙ্খলার অন্দরে বড়সড় ঝাঁকুনি দিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রাক্তন ওসি এবং ১২ জন ব্যবসায়ীকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা সম্ভব হলে কয়লা সিন্ডিকেটের মূল চাঁই এবং নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের নাম সামনে আসবে। ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক খতিয়ান এবং ওসির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথির সূত্র ধরে এই পাচারের কালো টাকা কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট হবে। ফলে আগামী দিনে এই মামলায় আরও বড় কোনো গ্রেপ্তারি বা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *