৪ লাখেই পার স্টাফ সিলেকশনের বৈতরণী, উত্তরপ্রদেশে পর্দাফাঁস বিশাল জালিয়াতি চক্রের

দেশজুড়ে যখন নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও অনিয়ম নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশে হদিস মিলল আরও এক বড়সড় সরকারি চাকরি পরীক্ষার কেলেঙ্কারির। স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC)-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নামে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গ্রেটার নয়ডার এক পরীক্ষাকেন্দ্রে হানা দিয়ে চক্রের মূল পাণ্ডা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৫০ লক্ষ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল এবং পরীক্ষার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি।
প্রক্সি সার্ভার ও স্ক্রিন শেয়ারিংয়ের কারসাজি
তদন্তে নেমে এই চক্রের অভিনব ও মারাত্মক জালিয়াতির কার্যপদ্ধতি দেখে কার্যত চমকে উঠেছেন গোয়েন্দারা। প্রথাগতভাবে মূল ওয়েবসাইট হ্যাক না করে, এরা পরীক্ষাকেন্দ্রের কম্পিউটারে এক ধরণের প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করত। এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রের মূল সার্ভারকে অনায়াসে ‘বাইপাস’ বা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।
পরীক্ষা শুরু হতেই একটি বিশেষ স্ক্রিন শেয়ারিং ভিউয়ার অ্যাপের সাহায্যে কম্পিউটারের পুরো স্ক্রিনটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে থাকা বিশেষজ্ঞদের কাছে চলে যেত। বাইরে বসে থাকা সেই ‘সলভার’ বা সমাধানকারীরা দ্রুত প্রশ্নপত্র সমাধান করে তা আবার পরীক্ষার্থীদের কম্পিউটারে পাঠিয়ে দিত। এই জালিয়াতির জন্য পরীক্ষার্থী পিছু চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করা হতো।
দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই চক্র
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তারা দেশের একাধিক বড় পরীক্ষায় এভাবে কারচুপি চালিয়ে আসছিল। এর আগে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF), সেক্রেটারিয়েট সিকিউরিটি ফোর্স কনস্টেবল (GD) এবং আসাম রাইফেলস রাইফেলম্যানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় এরা সফলভাবে জালিয়াতি করেছে। নির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে এসটিএফ গ্রেটার নয়ডার ‘বালাজি ডিজিটাল জোন’ নামক একটি অনলাইন পরীক্ষাকেন্দ্রে আচমকা হানা দিয়ে এই চক্রের পর্দাফাঁস করে।
মেধার অবমূল্যায়ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
জাতীয় স্তরের নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ক্ষোভের মধ্যেই এই নতুন কেলেঙ্কারি সামনে আসায় দেশের অনলাইন পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেভাবে মূল সার্ভারকে বাইপাস করা হচ্ছে, তাতে সাধারণ ও যোগ্য পরীক্ষার্থীদের মেধার অবমূল্যায়ন ঘটছে। এই ধরণের জালিয়াতির ফলে একদিকে যেমন যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে অযোগ্য ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে বসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। দেশজুড়ে চলমান এই পরীক্ষা বিপর্যয় রুখতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি। এই চক্রের সঙ্গে আর কোনো প্রভাবশালী বা পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরের কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে পুলিশ।