নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে শুভেন্দু সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, চাকরিপ্রার্থীরা এবার পাবেন ওএমআর শিটের কার্বন কপি!

নিয়োগ দুর্নীতি রুখতে শুভেন্দু সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, চাকরিপ্রার্থীরা এবার পাবেন ওএমআর শিটের কার্বন কপি!

রাজ্যের সরকারি চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। এখন থেকে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অবজেক্টিভ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন বা ওএমআর (OMR) শিটের কার্বন কপি সরাসরি চাকরিপ্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। শিয়ালদহে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বড় ঘোষণা করেন। পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও দুর্নীতির আবহ কাটাতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

স্বচ্ছতার লক্ষ্যে নতুন নিয়োগ নীতি

মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, এতদিন ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষার্থীদের কার্বন কপি দেওয়া হতো না, যার ফলে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির মতো শব্দগুলো বারবার সামনে এসেছে। এই অন্ধকার অধ্যায়ের অবসান ঘটাতেই ওএমআর শিটের কার্বন কপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত। বিগত সরকারের জমানায় বিপুল নিয়োগ দুর্নীতির কারণে দেশজুড়ে পশ্চিমবঙ্গের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধার করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান প্রশাসন। এই লক্ষ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন নিয়োগ নীতি বলবৎ করতে চলেছে রাজ্য সরকার, যা সম্ভবত আগামী বাজেট অধিবেশনেই বিধানসভায় বিল আকারে পেশ করা হতে পারে।

মৌখিক পরীক্ষার নিয়মেও বড় বদল

লিখিত পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বড়সড় পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন সরকারের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পাইয়ে দিয়ে ‘অযোগ্য’দের সুযোগ করে দেওয়ার এবং যোগ্যদের বঞ্চিত করার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠেছিল। সেই স্বজনপোষণের রাস্তা বন্ধ করতে এবার থেকে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বরের একটি সুনির্দিষ্ট ন্যূনতম সীমা বা ‘মিনিমাম নম্বর’ নির্ধারণ করা হবে, যাতে ইন্টারভিউ বোর্ডের মর্জির ওপর চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ ঝুলে না থাকে। একইসঙ্গে এসসি, এসটি, ওবিসি এবং বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংরক্ষণ নীতি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ ছিল, তা কঠোরভাবে সংশোধন করে শতভাগ সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা

বিগত দিনে ২৬ হাজার চাকরি চুরি এবং অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের নিয়োগের মতো ঘটনার জেরে রাজ্যের সামগ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি দেখে রেল ও আধাসেনার মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিও নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছিল। এই প্রশাসনিক অবক্ষয় থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে মেধাবী ও যোগ্য যুবসমাজের কাছে কর্মসংস্থানের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ১০০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন সরকার কর্মসংস্থানের এই নতুন ‘গ্যারান্টি’ নিশ্চিত করতে চাইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *