ডাক্তারদের চরম গাফিলতি! সিজারিয়ানের সময় পেটে রয়ে গেল তুলোর প্যাড, যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যু মহিলার

অপারেশনের পর পেটের ভেতরেই রয়ে গেল তুলোর প্যাড, চিকিৎসকদের চরম গাফিলতিতে প্রাণ গেল প্রসূতির!
চিকিৎসা পেশার গায়ে বড়সড় কলঙ্ক লেপে দিয়ে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতী জেলার অঞ্জনগাঁও সুর্জিতে। সন্তান প্রসবের জন্য সিজেরিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের চরম গাফিলতির কারণে এক যুবতীর পেটের ভেতরেই রয়ে যায় অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত তুলোর প্যাড বা ‘অ্যাবডোমিনাল মপ’। আর এই মারাত্মক ভুলের খেসারত হিসেবে দিনরাত অসহ্য যন্ত্রণায় ভুগে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ২৬ বছর বয়সী ওই প্রসূতি।
তদন্তে চিকিৎসকদের মারাত্মক গাফিলতির প্রমাণ
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবতীর নাম রেশমা বি ইরফান আহমেদ। ২০২৪ সালের ৮ মার্চ সন্তান প্রসবের জন্য তিনি স্থানীয় ডক্টর মোহন কালে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানেই তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর থেকেই রেশমার পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দ্রুত অমরাবতীর অন্য দুটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি; চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি মারা যান।
যুবতীর মৃত্যুর পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সম্প্রতি জেলা সার্জনের জমা দেওয়া চূড়ান্ত মেডিকেল রিপোর্টে এই মৃত্যুর পেছনের আসল ও ভয়ঙ্কর সত্যটি সামনে আসে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা পেটের ভেতরের রক্ত ও তরল শোষণের জন্য ব্যবহৃত অত্যন্ত শোষণক্ষমতাবিশিষ্ট তুলোর প্যাডটি বের করতে ভুলে যান এবং তা ভেতরে রেখেই সেলাই করে দেন। এই মপ পেটের ভেতর থেকে যাওয়ায় তা গুরুতর ইনফেকশন বা সংক্রমণের সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ওই প্রসূতির মৃত্যুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক ডক্টর শ্যাম ইয়েটে এবং ডক্টর দীপালি কালের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
এক ঝলকে
- মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের চরম গাফিলতিতে ২৬ বছর বয়সী এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।
- অস্ত্রোপচারের সময় রক্ত মোছার জন্য ব্যবহৃত তুলোর প্যাড (অ্যাবডোমিনাল মপ) পেটের ভেতরে রেখেই চিকিৎসকেরা সেলাই করে দেন।
- অপারেশন পরবর্তী সময়ে পেটের ভেতরে সৃষ্ট তীব্র ইনফেকশন ও অসহ্য যন্ত্রণার কারণে ওই যুবতী প্রাণ হারান।
- জেলা সার্জনের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অঞ্জনগাঁও সুর্জি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।