জ্বালানির বাজারে আগুন, এবার মধ্যবিত্তের পকেটে টান মেরে দাম বাড়ল সিএনজিরও

পেট্রোল ও ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এবার সাধারণ মানুষের পকেটে বড় কোপ বসাল কমপ্রেসড ন্যাচরাল গ্যাস বা সিএনজি। মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে এই নিয়ে তৃতীয়বার সিএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা। আজ থেকে রাজধানী দিল্লি-এনসিআরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি কেজি সিএনজির দাম এক টাকা করে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাই দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।
বিশ্বরাজনীতির সংকটে ব্যাহত জ্বালানি সরবরাহ
অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলোর সূত্র অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার কারণে ভারতে জ্বালানি আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহ সংকটের জেরে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের (HPCL) মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর দৈনিক প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এই বিপুল লোকসান সামাল দিতেই পেট্রোল-ডিজেলের পাশাপাশি সিএনজির দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাগুলো।
গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধির আশঙ্কা
সিএনজির এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত খরচে। দেশের অধিকাংশ বড় শহরেই এখন অটো, ট্যাক্সি এবং সরকারি-বেসরকারি বাস সিএনজি চালিত। গত ১৫ মে সিএনজির দাম বেড়েছিল ২ টাকা এবং ১৮ মে বেড়েছিল আরও ১ টাকা। নয় দিনে তিনবার দাম বাড়ার ফলে পরিবহন মালিকেরা তীব্র আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খুব শীঘ্রই অটো, বাস ও ট্যাক্সির ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের খরচের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।