স্কুল পরিচালন সমিতিতে এবার শেষ কথা বলবেন অভিভাবকরাই, বিদায় নিচ্ছে রাজনৈতিক দাদাগিরি

স্কুল পরিচালন সমিতিতে এবার শেষ কথা বলবেন অভিভাবকরাই, বিদায় নিচ্ছে রাজনৈতিক দাদাগিরি

পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। স্কুল থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় আধিপত্য উপড়ে ফেলে শিক্ষাঙ্গনকে সম্পূর্ণ রাজনীতি ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে বড়সড় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে স্কুলের পরিচালন সমিতি (এমসি) গঠনে আর রাজনৈতিক দলের মনোনীত ব্যক্তিদের একচ্ছত্র দাদাগিরি থাকবে না, বরং সেখানে শেষ কথা বলবেন পড়ুয়াদের অভিভাবকরাই। সরকার বদলের পরপরই রাজ্যের স্কুলগুলির পুরনো পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশিকা আসার পর এবার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

যেভাবে আমূল বদলে যাচ্ছে কমিটির খোলনলচে

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল স্তরের ওপর ভিত্তি করে পরিচালন সমিতির সদস্য সংখ্যা ১২ থেকে ২৫ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতিতে থাকবেন ১৫ জন এবং মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা হবে ২০। অন্যদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা হবে ২৫ জন। চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই ২৫ জনের মধ্যে ১৮ জনই থাকবেন অভিভাবক। বাকি সদস্যদের মধ্যে ২ জন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাকিরা স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।

শুধু সদস্য পদেই নয়, কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বেও আনা হচ্ছে বড় বদল। এবার থেকে রাজনৈতিক নেতা বা বহিরাগত কেউ নন, সরাসরি একজন অভিভাবকই হবেন পরিচালন সমিতির চেয়ারপার্সন বা সভাপতি। অপর একজন অভিভাবক সামলাবেন ভাইস চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা টিআইসি থাকবেন সদস্য সচিব হিসেবে। প্রধান শিক্ষক বাদে কমিটির অন্য কোনও সদস্য টানা দুই মেয়াদের বেশি এই পদে থাকতে পারবেন না এবং এই কমিটির মোট মেয়াদ হবে ২ বছর। প্রতি মাসে অন্তত একটি বৈঠক এবং বছরে একবার সমস্ত অভিভাবকদের নিয়ে বার্ষিক সাধারণ সভা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ ফেরার আশা

জাতীয় শিক্ষা নীতিকে (এনইপি) সামনে রেখে এই নতুন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল যে, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুল পরিচালন সমিতিগুলিতে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজেদের অনুগামীদের বসানো হতো, যার ফলে বিঘ্নিত হতো শিক্ষার পরিবেশ। নতুন নিয়মে ৭৫ শতাংশ পদ অভিভাবকদের জন্য সংরক্ষিত করায় সেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। অভিভাবক ও প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হলে স্কুলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, পঠনপাঠনের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। দলবাজি মুক্ত এই নতুন পরিচালন সমিতি রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রত্যাশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *