২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি ও ১০০-র নিচে আসন নামার বড় ধাক্কা, তৃণমূলে কোণঠাসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি ও ১০০-র নিচে আসন নামার বড় ধাক্কা, তৃণমূলে কোণঠাসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

একটা সময় দলের অবিসংবাদিত ‘সেনাপতি’ কিংবা ‘যুবরাজ’ হিসেবে সহকর্মী ও অনুগামীদের অভিনন্দন এবং বাহবা কুড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমে যেতেই রাতারাতি বদলে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখন প্রকাশ্যেই দূরত্ব তৈরি করছেন তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট ও প্রবীণ নেতা। দলের অন্দরে তীব্র হচ্ছে ‘অভিষেক বিরোধী’ ক্ষোভ, যা একসময় কল্পনারও অতীত ছিল। এমনকি খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই কিছু নেতা অভিষেকের দিকে সরাসরি কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছেন বলে খবর সামনে আসছে।

ভরাডুবির জেরে দূরত্ব বৃদ্ধি ও আইপ্যাক বিতর্ক

২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচার চলাকালীনও যেখানে দলের সিংহভাগ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অনুপ্রেরণা’ ও নেতৃত্ব নিয়ে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই দৃশ্য সম্পূর্ণ উল্টে গেছে। দলের বিপর্যয় স্পষ্ট হতেই অভিষেক ঘনিষ্ট বলে পরিচিত সাময়িক বরখাস্ত হওয়া নেতা ঋজু দত্ত নির্বাচনী হারের জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেকের উপর দায় চাপিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের নিজস্ব সংগঠনের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর ওপর নির্ভরতাই এই চরম বিপর্যয়ের মূল কারণ। শুধু ঋজু দত্তই নন, তৃণমূলের তথাকথিত ‘অভিষেক ব্রিগেড’-এর অনেকেই এখন আড়ালে-আবডালে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম কারিগর তথা ফলতার দলীয় প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের আকস্মিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তও দলের ভেতরে অভিষেকের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কার মুখে ফেলেছে।

সম্পত্তি বিতর্ক ও দলের শীর্ষ নেতাদের হাত ধুয়ে ফেলার প্রবণতা

রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি আইনি ও পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্ক অভিষেকের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ এবং তাঁর পরিবারের নামে থাকা কলকাতার একাধিক ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার সরকারি নোটিসকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ভেতরে এখন চরম চোরাস্রোত ও অস্বস্তি চলছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই সংকটের সময়ে দলের প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতারা অভিষেকের পাশ থেকে কার্যত সরে দাঁড়াচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পুরসভার নোটিস সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই এবং এটি তাঁর জানার কথাও নয়। প্রায় একই সুর শোনা গেছে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গলায়। তিনি মন্তব্য করেছেন, কার বাড়িতে কটি নোটিস গেছে বা কার কত সম্পত্তি রয়েছে, তা একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর আইনজীবীই ভালো বলতে পারবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী বিপর্যয় এবং একের পর এক আইনি বিতর্কের কারণেই মূলত দলের প্রভাবশালী নেতারা এখন ‘যুবরাজ’-এর দায় নিতে নারাজ, যার ফলে তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বিরোধী শিবিরের হাত দিন দিন আরও শক্ত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *