পরিবারের সবাইকে কি একসাথে কৃমির ওষুধ খেতে হয়, ভুল ধারণা ভাঙলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক

আমাদের দেশে কৃমির সমস্যা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। ছোট থেকে বড়, যে কেউ এই পরজীবীর আক্রমণের শিকার হতে পারেন। তবে কৃমির ওষুধ খাওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বহুলাংশে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, পরিবারের একজনের কৃমি হলে বাড়ির বাকি সবারই একযোগে ওষুধ খাওয়া জরুরি। এই ধারণার আসল সত্যটি সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মেডিসিনের চিকিৎসক ডা: রুদ্রজিৎ পাল।
সংক্রমণের কারণ ও লক্ষণ
মূলত দূষিত খাবার এবং অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই পরজীবী মানব শরীরে প্রবেশ করে অন্ত্রে বাসা বাঁধে। দারিদ্র্যপীড়িত এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব রয়েছে এমন অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি। কৃমি শরীরে প্রবেশ করলে এটি মানুষের গৃহীত খাদ্য থেকে পুষ্টি উপাদান শোষণ করে বেঁচে থাকে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত অপুষ্টি ও রক্তাল্পতার (অ্যানিমিয়া) শিকার হন।
ছোটদের ক্ষেত্রে কৃমি হলে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ শ্লথ হওয়া এবং পায়ুদ্বারে চুলকানির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অন্যদিকে বড়দের ক্ষেত্রে প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয় চরম দুর্বলতা, রক্তাল্পতা ও পেটে ব্যথা।
ওষুধ কি সবাইকে খেতে হবে
চিকিৎসকদের মতে, পরিবারের সবাইকে একসাথে কৃমির ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি সবসময় বাধ্যতামূলক নয়। অনেক সময় শুধুমাত্র আক্রান্ত রোগীকে নির্দিষ্ট ওষুধ দিলেই রোগ নিরাময় সম্ভব হয়। তবে সংক্রমণ যদি অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করে, তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। রোগীকে একা ওষুধ দেওয়া হবে নাকি পুরো পরিবারকে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এবং এটি একান্তই চিকিৎসকের বিবেচ্য বিষয়। সাধারণত এই সমস্যার সমাধানে চিকিৎসকরা অ্যালবেনিডাজোল জাতীয় অত্যন্ত কার্যকরী ওষুধ প্রেসক্রাইব করে থাকেন।
প্রতিরোধে করণীয়
কৃমির সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সচেতনতাই একমাত্র পথ। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে এই পরজীবীর আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। এর জন্য সর্বদা পরিশোধিত পানীয় জল ব্যবহার করতে হবে এবং খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা জরুরি। পাশাপাশি হাতের নখ সবসময় ছোট রাখা এবং শাকসবজি, মাছ ও মাংস রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে ও সঠিকভাবে সেদ্ধ করে রান্না করার মাধ্যমে এই রোগ সম্পূর্ণ প্রতিরোধ করা সম্ভব।