সিনেমার টোটকাতেই লুকিয়ে বড় বিপদ! সাপে কাটলে ক্ষতস্থানে কাপড় বাঁধলে অঙ্গহানির ঝুঁকি

গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়তেই দেশজুড়ে সাপের উপদ্রব এবং সর্পদংশনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে শীতল ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সাপেরা এখন লোকালয় বা শহরাঞ্চলের দিকে ছুটে আসছে। তবে সাপে কাটার পর সঠিক সচেতনতার অভাবে প্রতি বছরই বহু মানুষের জীবন সংকটে পড়ে। বিশেষ করে রূপালী পর্দায় দেখা পুরোনো ঘরোয়া টোটকা মেনে ক্ষতস্থানের ওপর শক্ত করে কাপড় বা দড়ি বেঁধে দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা ডেকে আনছে চরম বিপর্যয়। সাধারণ মানুষের ধারণা, এতে বিষ ছড়ানো বন্ধ হয়; কিন্তু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন সম্পূর্ণ উল্টো কথা।
রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পচন ধরার আশঙ্কা
চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর ক্ষতস্থানের উপরে অতিরিক্ত আঁটসাঁট করে কাপড়, দড়ি বা বেল্ট বাঁধলে সেই অংশে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আক্রান্ত স্থানে তীব্র ফোলা ভাব তৈরি হয় এবং টিস্যু স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ রক্ত সরবরাহ না থাকায় সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি পচে গিয়ে বিকল হওয়ার বা কেটে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রোগীর অবস্থা ভাল করার চেয়ে আরও বেশি জটিল করে তোলে এবং অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আতঙ্ক ও ভুল চিকিৎসায় বাড়ে ঝুঁকি
সাপে কামড়ালে মানুষের মধ্যে যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়, তা বিষের চেয়েও দ্রুত ক্ষতি করে। চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্কের কারণে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, যার ফলে বিষ আরও দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া ক্ষতস্থান কেটে রক্ত বের করা, মুখ দিয়ে বিষ চোষা বা বরফ দেওয়ার মতো প্রচলিত টোটকাগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ধরনের ভুল পদক্ষেপ ও সময় নষ্ট করার কারণে রোগীর জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
করণীয় এবং সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা
সর্পদংশনের ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো রোগীকে সম্পূর্ণ শান্ত রাখা এবং আক্রান্ত স্থানটি যতটা সম্ভব নড়াচড়া না করিয়ে স্থির রাখা। একমাত্র হাসপাতালের ‘অ্যান্টি-ভেনম’ বা সাপের বিষের প্রতিষেধকই রোগীকে বাঁচাতে পারে। তাই কোনো রকম সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকদের সুবিধার্থে সম্ভব হলে সাপটির রঙ বা আকৃতি মনে রাখা যেতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই সাপ ধরতে বা মারতে গিয়ে সময় অপচয় করা যাবে না। সঠিক সময়ে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা শুরু হলে বেশিরভাগ রোগীকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।