পশ্চিম বর্ধমানের নাম বদলে কি এবার আসানসোল দুর্গাপুর

পশ্চিম বর্ধমানের নাম বদলে কি এবার আসানসোল দুর্গাপুর

পশ্চিম বর্ধমান জেলার নাম পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনীতি। দুর্গাপুরে আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকে জেলাটির নাম বদলে ‘আসানসোল-দুর্গাপুর’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন বিজেপি বিধায়করা। মূলত এই দুই শিল্পশহরের ঐতিহ্য, পরিচিতি এবং গরিমাকে রাজ্য তথা জাতীয় স্তরে বিশেষ স্বীকৃতি দিতেই এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। বৈঠকে পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রস্তাবের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। এই প্রস্তাবের পর মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।

নাম পরিবর্তনের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, আসানসোল এবং দুর্গাপুর—উভয় শহরই রাজ্যের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিল্পতালুক হিসেবে পরিচিত। বিধায়কদের যুক্তি, জেলার বর্তমান নামের চেয়ে এই দুই শহরের যৌথ নাম অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে আরও বেশি প্রতিফলিত করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করা না হলেও, জেলার সমস্ত বিধায়ক যদি এই প্রস্তাবে সহমত পোষণ করেন, তবে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে এই নাম বদলের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন

উক্ত প্রশাসনিক বৈঠকে কেবল নাম পরিবর্তনই নয়, জেলার শিল্পাঞ্চলগুলির একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। কারখানার গেটের সামনে সিন্ডিকেট রাজ ও ইউনিয়ন অফিসের দাপটে তোলাবাজি এবং শ্রমিকদের মজুরি থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন বিধায়করা। এই ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে। পাশাপাশি, দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই মায়াবাজার রেল ওভারব্রিজের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান। সামগ্রিকভাবে, রাস্তা দখল ও অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *