পরীক্ষার্থীদের জন্য বড় উপহার, রবিবারে একডজন স্পেশাল লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি ভোরেই ছুটবে মেট্রো

রবিবার ছুটির দিনে রাজ্যে দুটি বড় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। একদিকে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন (WBJEE) এবং অন্যদিকে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। এই জোড়া পরীক্ষার জেরে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত মসৃণ রাখতে এবং বড়সড় ভিড় সামাল দিতে একযোগে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পূর্ব রেল ও কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সাধারণত রবিবারে লোকাল ট্রেন ও মেট্রো পরিষেবা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা দূর করতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১২টি স্পেশাল লোকাল ট্রেনের তালিকা
পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য হাওড়া ডিভিশনে আগামী রবিবার বাতিল থাকা ১২টি ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন বিশেষ জোড়া হিসেবে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। এই ট্রেনগুলি যাত্রাপথের প্রতিটি স্টেশনে থামবে। আপ লাইনে ভোর ৫.৪৫ মিনিটে হাওড়া-মসাগ্রাম লোকাল, সকাল ৭.১০ মিনিটে হাওড়া-ব্যান্ডেল লোকাল, সকাল ৭.৩০ মিনিটে ও বিকেল ৫.০০ মিনিটে হাওড়া-শেওড়াফুলি লোকাল, সকাল ৭.৪৫ মিনিটে হাওড়া-শ্রীরামপুর লোকাল এবং সন্ধ্যা ৫.৫২ মিনিটে বালি-ب্যান্ডেল লোকাল চলাচল করবে।
ডাউন লাইনেও সমপরিমাণ ট্রেন চালানো হবে। যার মধ্যে রয়েছে সকাল ৮.০৬ মিনিটে মসাগ্রাম-হাওড়া লোকাল, সকাল ৮.২৮ মিনিটে ব্যান্ডেল-হাওড়া লোকাল, সকাল ৮.২০ মিনিটে ও সন্ধ্যা ৬.১৩ মিনিটে শেওড়াফুলি-হাওড়া লোকাল, সকাল ৮.৪০ মিনিটে শ্রীরামপুর-হাওড়া লোকাল এবং বিকেল ৪.২৫ মিনিটে ব্যান্ডেল-বালি লোকাল। ছুটির দিনে এই ট্রেনগুলি চালু থাকায় গ্রামীণ ও শহরতলির পরীক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন।
দুই ঘণ্টা আগে চালু হচ্ছে মেট্রো
রেলের পাশাপাশি ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি দিয়ে কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষও তাদের সময়সূচিতে বড় বদল এনেছে। ব্লু ও গ্রিন লাইনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই ঘণ্টা আগে অর্থাৎ সকাল ৯টার পরিবর্তে সকাল ৭টা থেকেই মেট্রো চলাচল শুরু হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ব্লু লাইনে সকাল ৭টায় দক্ষিণেশ্বর ও দমদম থেকে ডাউন রুটে এবং মহানায়ক উত্তম কুমার ও শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকে আপ রুটে প্রথম মেট্রো মিলবে। সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত আধঘণ্টা অন্তর ট্রেন চলবে এবং এরপর থেকে স্বাভাবিক সূচি বজায় থাকবে। তবে রাতের শেষ মেট্রোর সময়ে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। রেল ও মেট্রোর এই সমন্বিত প্রয়াসের ফলে লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক যানজট ও ভিড়ের ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।