কান্দির বিলাসবহুল বাড়িতে বিপুল সোনা ও নগদ উদ্ধার, প্রাক্তন পুলিশকর্তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে ইডি

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহার মুর্শিদাবাদের কান্দির পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা, নগদ টাকা এবং সম্পত্তির নথিপত্র উদ্ধার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। জমি জবরদখল ও প্রতারণার মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হয়েছেন এই প্রাক্তন পুলিশকর্তা। সোনা পাপ্পু নামক এক অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগসাজশের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়। শুক্রবার কান্দির ওই রাজকীয় বাড়ির তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি কলকাতার বেশ কয়েকটি এলাকাতেও সমান্তরাল তল্লাশি চালানো হয়েছে। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া সোনার পরিমাণ প্রায় দুই কেজিরও বেশি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক তিন কোটি টাকা।
তদন্তে উঠে এল রাজকীয় প্রাসাদের হদিস
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, কান্দি পুরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শান্তনু সিনহার এই পৈতৃক বাড়িটি কয়েক বছর আগেও অত্যন্ত জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু সোনা পাপ্পুর কাছ থেকে আসা বিপুল অর্থে রাতারাতি সেটিকে একটি সুরক্ষিত ও বিলাসবহুল প্রাসাদে পরিণত করা হয়। ব্লক ভূমি-সংস্কার আধিকারিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চত্বরে প্রায় পঞ্চাশ শতক জমি রয়েছে শান্তনুর নামে। বাড়িটির সুরক্ষায় ছিল আট ফুট উঁচু কাঁটাতারের প্রাচীর, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক। কলকাতায় বসেই নিজের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই প্রাসাদের ওপর নজরদারি চালাতেন শান্তনু। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইডি।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সংযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসতেন শান্তনু সিনহা। তবে বাড়ির একটি বড় অংশ তাঁর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাসের হেফাজতে ছিল, যিনি তৃণমূল পরিচালিত কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান। শান্তনুর তালাবন্ধ ঘরগুলি থেকেই মূলত এই বিপুল পরিমাণ সোনা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিনে কলকাতা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টর এবং চক্রবেড়িয়ার ব্যবসায়ী অতুল কাটারিয়ার বাড়িতেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই যৌথ অভিযানের ফলে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে অপরাধ জগতের আর্থিক লেনদেনের গভীর যোগসূত্র সামনে আসছে, যা আগামী দিনে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।