তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের আবহেই কি তবে মমতাকে ‘ঘর ওয়াপসি’র বার্তা দিল কংগ্রেস?

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের আবহেই কি তবে মমতাকে ‘ঘর ওয়াপসি’র বার্তা দিল কংগ্রেস?

বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আশাতীত ভরাডুবির পর চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নিচুতলা থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব—দলের সর্বত্রই এখন তীব্র অসন্তোষ ও ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ও পুরনো নেতাদের নিজেদের শিবিরে টানতে বড়সড় চাল চালল প্রদেশ কংগ্রেস। এককালে যারা কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলেন, তাঁদের সসম্মানে দলে ফেরার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে হাত শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আহ্বানের তির পরোক্ষভাবে স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও হতে পারে।

ঘোলা জলে মাছ ধরার মরিয়া চেষ্টা

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে কোন্দল ও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো নেতা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন। একের পর এক পুরসভা ও পঞ্চায়েত হাতছাড়া হচ্ছে, এমনকি দলীয় কর্মসূচিতেও কর্মীদের সাড়া মিলছে না। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শুভঙ্কর সরকার ও এআইসিসি-র রাজ্য পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর সাফ জানিয়েছেন, যাদের জন্ম ও রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা কংগ্রেসে, ক্ষোভ বা বাধ্যবাধকতার কারণে যারা অন্য দলে গেছেন, তাঁদের জন্য কংগ্রেসের দরজা চিরকাল খোলা। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ আখ্যা দিয়ে পুরনোদের খোলা মনে স্বাগত জানানোর বার্তা দিয়েছেন তাঁরা।

তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও সম্ভাব্য প্রভাব

কংগ্রেসের এই কৌশলী বার্তার পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রের দাবি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু বিধায়কদের একটি বড় অংশ এবং নিচুতলার বহু কর্মী-সমর্থক নিজেদের রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই দলবদল প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে কংগ্রেস একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করছে, যা দলত্যাগীদের ভাবমূর্তি স্ক্রুটিনি করে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচনের পর সোনিয়া ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতার ফোনালাপ এবং জোটের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে তৃণমূলনেত্রীর রহস্যময় নীরবতা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই তৃণমূলের একটি বড় অংশ কংগ্রেসে যোগ দেয়, তবে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে এবং তৃণমূলের অস্তিত্ব আরও সংকটে পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *