নতুন এসি লাগানোর সময় এই ভুল করলেই চরম বিপদ, পকেট খালি হওয়ার পাশাপাশি বিকল হতে পারে দামি যন্ত্র

তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে এখন ঘরে ঘরে এসি কেনার ধুম লেগেছে। তবে এসি কেনার পর তা বাড়িতে বসানোর বা ইনস্টলেশনের সময় সঠিক নিয়মের অভাবে ঘটে যাচ্ছে মারাত্মক কিছু ভুল। অনেকেই বুঝতে পারছেন না কেন মাস শেষে আকাশছোঁয়া বিদ্যুৎ বিল আসছে কিংবা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সাধের এসি বিকল হয়ে যাচ্ছে। মূলত এসির ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের মধ্যে সঠিক দূরত্ব বজায় না রাখাই এই সব সমস্যার মূল কারণ।
কম দূরত্বের জেরে কম্প্রেসরে মারাত্মক চাপ
স্প্লিট এসির ক্ষেত্রে অনেকে ঘরের দেয়ালের ঠিক উল্টো পিঠেই আউটডোর ইউনিটটি বসিয়ে দেন। এর ফলে দুটি ইউনিটের মধ্যে পাইপের দূরত্ব প্রায় থাকেই না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অন্তত ৩ থেকে ৫ মিটার দূরত্ব বজায় না রাখলে কম্প্রেসরে গ্যাস চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। ফলে কম্প্রেসর দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয়, এত কম দূরত্বের কারণে আউটডোর ইউনিটের তীব্র কম্পন সরাসরি ঘরের ভেতরে চলে আসে, যা অত্যন্ত বিরক্তিকর। যদি কোনো কারণে দেয়ালের ঠিক পেছনেই ইউনিট বসাতে হয়, তবে টেকনিশিয়ানকে দিয়ে অন্তত ১০ ফুটের পাইপটি একটু ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বসানো উচিত।
অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল
অনেকে আবার জায়গা বা সুবিধার অভাবে ঘরের ইনডোর ইউনিট থেকে আউটডোর ইউনিটটি অনেক দূরে, যেমন ভবনের ছাদে বা ৩০ থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে স্থাপন করেন। এই অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে ঘর ঠান্ডা হতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় নেয়। ঘর দ্রুত ঠান্ডা না হওয়ার ফলে এসি দীর্ঘক্ষণ ধরে চলতে থাকে এবং মাসের শেষে মাত্রাছাড়া বিদ্যুৎ বিল আসে। পাশাপাশি দূরত্বের কারণে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা পুরো সিস্টেমটিকে অকালে বিকল করে দিতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী এসি ও সঠিক কার্যকারিতার উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি স্প্লিট এসির ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের মধ্যে সবচেয়ে আদর্শ ও নিরাপদ দূরত্ব হলো ১০ ফুট। এই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখলে এসির ভেতরের গ্যাসের প্রেসার একদম সঠিক থাকে এবং কম্প্রেসরের ওপর কোনো বাড়তি চাপ পড়ে না। ফলে ঘর যেমন খুব দ্রুত ঠান্ডা হয়, তেমনই বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এসি দীর্ঘদিন পর্যন্ত সচল ও টেকসই হয়।