ইদের ছুটি কমালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বাংলায় কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে পুজোর ছুটিতেও কি এবার কোপ?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল এবং কড়া সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে শুরু করেছে নতুন সরকার। ঢালাও ছুটির সংস্কৃতিতে রাশ টেনে রাজ্যে নতুন কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার এক স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মে মাসের শেষ দিকে আসন্ন বখরি ইদ তথা ইদ-আল-আধার ছুটি এক ধাক্কায় কমিয়ে নতুন সরকার বুঝিয়ে দিল, কাজের দিনে কাজের পরিবেশ বজায় রাখতেই তারা বেশি আগ্রহী।
ইদের ছুটি ছাঁটাই ও নবান্নের বার্তা
বিগত দেড় দশক ধরে রাজ্যে বখরি ইদ উপলক্ষে দুই দিন সরকারি ছুটি দেওয়ার রীতি চালু রেখেছিল পূর্বতন তৃণমূল সরকার। চলতি বছরের শুরুতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে, ২৬ ও ২৭ মে দুদিন রাজ্য জুড়ে সরকারি ছুটি থাকবে। তবে শনিবার নবান্ন থেকে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই ছুটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২৬ বা ২৭ মে নয়, আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার ইদের জন্য স্রেফ একদিন সরকারি ছুটি থাকবে।
প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ইদের আসল নির্ঘণ্ট অনুযায়ী এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি কেবল দিন বদল নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে নতুন সরকারের এক প্রচ্ছন্ন বার্তা। ঢালাও ছুটি দিয়ে সরকারি কর্মচারীদের খুশি করার যে জনমোহিনী রাজনীতি রাজ্যে চলত, নতুন মুখ্যমন্ত্রী সেই পথে হাঁটতে নারাজ। কাজের দিনে কাজ নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
দুর্গাপুজোর রেকর্ড ছুটিতেও কি বদল?
ইদের ছুটি কমতেই এখন রাজ্য সরকারি মহলে সবচেয়ে বড় কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে। পূর্বতন সরকারের আমলে দুর্গাপূজায় কার্যত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরকারি দফতরগুলিতে ছুটি থাকত, যার ফলে জরুরি প্রশাসনিক কাজ স্তব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো। ক্ষমতা হারানোর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবার পুজো ও ছট পুজো মিলিয়ে অতিরিক্ত দিনসহ টানা দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা করে গিয়েছিলেন।
নবান্নের প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে যদি সত্যিই নতুন বিনিয়োগ টানতে হয় এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পেশাদারিত্বের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে সরকারি কর্মচারীদের এই অতিরিক্ত ছুটির বহর কমাতেই হবে। কর্পোরেট বা আইটি সেক্টরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি স্তরেও কাজের দিন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইদের ছুটি কমানোর এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি আসলে আগামী দিনে রাজ্যের ছুটির তালিকায় বড়সড় কাটছাঁট করার এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।