তিশা শর্মা মৃত্যু মামলা, এবার পার্লারের সিসিটিভি ফুটেজ পেতে মরিয়া শাশুড়ি, বাড়ছে রহস্য

তিশা শর্মা মৃত্যু মামলা, এবার পার্লারের সিসিটিভি ফুটেজ পেতে মরিয়া শাশুড়ি, বাড়ছে রহস্য

অভিনেত্রী ও মডেল তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিশার বিউটি পার্লারে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ পেতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন তাঁর শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি গিরিবালা সিংহ। পার্লার মালক কিরণ পরিহারের বিস্ফোরক দাবি, তিশার মৃত্যুর পরদিনই গিরিবালা দেবী তাঁকে ফোন করে পার্লারের বিল এবং তিশার উপস্থিতি নিয়ে নানা খুঁটিনাটি প্রশ্ন করেন, এমনকি সেদিনের ভিডিও ফুটেজ দেওয়ার জন্যও প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন। ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির ছাদের যে অংশে তিশা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছিল, সেই স্থানটির ছবিও প্রথমবার প্রকাশ্যে এসেছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

এইমসের বিশেষ দল ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের নির্দেশে তিশা শর্মার দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দিল্লির এইমস চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সুধীর গুপ্ত জানিয়েছেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ চিকিৎসকদের এই বিশেষ দলটি রাজ্য সরকারের চার্টার্ড বিমানে ভোপালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বর্তমানে তিশার দেহ ভোপাল এইমসের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নিখুঁতভাবে জানার চেষ্টা করবেন বিশেষজ্ঞরা।

গ্রেপ্তার স্বামী, বিপাকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শাশুড়ি

মামলার প্রধান অভিযুক্ত তথা তিশার স্বামী আইনজীবী সমার্থ সিংকে ১০ দিন পলাতক থাকার পর জবলপুর আদালত চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সমার্থ তাঁর অগ্রিম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে আত্মসমর্পণ করতে গেলে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়। আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে সমার্থের মা গিরিবালা সিংয়ের জামিন বাতিলের নোটিস জারি করা হয়েছে, যা তাঁর ওপর আইনি চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

পণের দাবি বনাম মাদকাসক্তির অভিযোগ

গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিশার শ্বশুরবাড়ির দাবি, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করেছেন। তবে তিশার বাবা-মায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তিশার ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো এবং এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পার্লারের ফুটেজ গায়েব করার চেষ্টা এবং প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির আচরণ এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *