সন্দেশখালির ছায়া এবার পটাশপুরে, পঞ্চায়েত অফিস থেকে উদ্ধার কন্ডোম ও বিছানা!

সন্দেশখালির ছায়া এবার পটাশপুরে, পঞ্চায়েত অফিস থেকে উদ্ধার কন্ডোম ও বিছানা!

সন্দেশখালির স্মৃতি এবার ফিরে এল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর পটাশপুর ২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসটি খুলতেই চক্ষুচড়কগাছ স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীদের। পঞ্চায়েত অফিসের তিনতলার একটি গোপন ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে খাট, বিছানা, এসি, শাড়ি, কন্ডোম, প্রসাধন সামগ্রী ও ফ্রিজভর্তি খাবার। সরকারি কার্যালয়ের ভেতরে এমন দৃশ্য দেখে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

সরকারি দপ্তরেই চলত অসামাজিক কাজ, বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

পঞ্চায়েত অফিস থেকে শুধুমাত্র বিলাসবহুল বা আপত্তিকর সামগ্রীই নয়, উদ্ধার হয়েছে জুয়ার বোর্ড এবং শয়ে শয়ে রেশন কার্ড ও মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে পটাশপুরের বিজেপি প্রার্থী তপন মাইতির জয়ের পর দলীয় কর্মীরা বন্ধ থাকা ওই পঞ্চায়েত অফিসটি খুলতে যান। তখনই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিজনবন্ধু বাগের প্রশ্রয়ে সরকারি অফিসকে দীর্ঘদিন ধরে ‘প্রমোদতরী’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পঞ্চায়েতের আড়ালে সেখানে যেমন অনৈতিক কাজ চলত, তেমনই সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্রও লোপাট করা হতো বলে দাবি বিজেপির।

তীব্র অস্বস্তিতে প্রশাসন, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তৃণমূল প্রধানকে ‘পটাশপুরের শাহজাহান’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের মতোই এই এলাকায় সমান্তরাল অসামাজিক সাম্রাজ্য চালানো হচ্ছিল বলে দাবি করে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার দ্রুত গ্রেপ্তার ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত অফিসের ভেতর থেকে এই ধরণের সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার জেরে এলাকা জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *