BJP-কে টক্কর দিতে নতুন ছক! তৃণমূলকে নিশানা করে বড় বার্তা সেলিমের

BJP-কে টক্কর দিতে নতুন ছক! তৃণমূলকে নিশানা করে বড় বার্তা সেলিমের

বাংলায় হারানো রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে সিপিএম। রাজ্যে বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে দাবি করে বাম নেতৃত্ব মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে তাদের সামনে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের দাবি, তীব্র গরমে তৃণমূল এখন বরফের চেয়েও দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বাস্তব রাজনৈতিক ময়দানে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠতে বামপন্থীরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

তৃণমূলের অবক্ষয় ও মেরুকরণের রাজনীতি

বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ও দুষ্কৃতী বাহিনীকে ব্যবহার করে রাজ্যে এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যার পরোক্ষ সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে আরএসএসের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক দলের প্রতি জনসমর্থনের এই ঘাটতি এবং অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই বামেদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে। সিপিএমের দাবি, তৃণমূল ও বিজেপি যৌথভাবে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে বাংলায় একটি কৃত্রিম ‘বাইনারি’ বা দ্বিমুখী লড়াইয়ের আবহ তৈরি করেছিল, যাতে অন্য বিরোধী শক্তিগুলোকে কোণঠাসা করা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের একাংশ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খুঁজতে শুরু করায় সেই শূন্যস্থান পূরণে বামফ্রন্ট অগ্রণী ভূমিকা নিতে চাইছে।

আন্দোলনের রূপরেখা ও সাংগঠনিক বাস্তবতা

মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয়তা বাড়াতে ইতিমধ্যেই কৌশল বদল করেছে বামেরা। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবিকায় আঘাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে বামপন্থী দল ও শ্রমিক সংগঠনগুলি আন্দোলনে নেমেছে। এর পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নে ধারাবাহিক লড়াই জারি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক খরার পর সাম্প্রতিক নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রে বামফ্রন্টের জয় দলের কর্মীদের নতুন অক্সিজেন জুগিয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সিপিএমের ভোটের হার বর্তমানে ৪.৪৫ শতাংশের কাছাকাছি সীমাবদ্ধ। ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুতির সময় যে ভোটের হার ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ, তা ২০২১ সালে ৪.৭৩ শতাংশে নেমে আসে। এই বিপুল ভোট হ্রাসের ধাক্কা কাটিয়ে এবং বর্তমান সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে বামপন্থীরা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে রাজ্যের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *