চিনের মিসাইল হ্যাক করল ভারত, পাকিস্তানের মারাত্মক ভুলে মাথায় হাত বেজিংয়ের!

চিনের মিসাইল হ্যাক করল ভারত, পাকিস্তানের মারাত্মক ভুলে মাথায় হাত বেজিংয়ের!

পাকিস্তানের এক ঐতিহাসিক ভুলে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও-র হাতে এল এক বিশাল বৈজ্ঞানিক সাফল্য। গত বছর ভারত-পাক সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তানের ছোঁড়া চিন নির্মিত অত্যাধুনিক ‘PL-15E’ ক্ষেপণাস্ত্রের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি এবং রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। আকাশ থেকে আকাশে নিখুঁত নিশানা লাগাতে সক্ষম চিনের এই প্রধান অস্ত্রের ‘ব্রেন হ্যাক’ বা মগজ ধোলাই করার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে ভারতের জন্য একটি বড় ‘জ্যাকপট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অপারেশন সিঁদুর এবং পাকিস্তানের সেই মারাত্মক ভুল

২০২৫ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশসীমায় তুমুল সংঘাত তৈরি হয়। সেই সময় ভারতের যুদ্ধবিমানগুলিকে নিশানা করতে পাকিস্তানের ‘J-10C’ এবং ‘JF-17’ বিমান থেকে চিনের তৈরি এই PL-15E ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় আকাশসীমা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তিশালী প্রতিরোধে ক্ষেপণাস্ত্রগুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলার কামাহি দেবী গ্রামের কাছে আছড়ে পড়ে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এই ধরণের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নিজস্ব ‘সুইসাইড প্রযুক্তি’ বা আত্মঘাতী প্রোগ্রাম থাকে, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয় যাতে শত্রুদেশের হাতে এর প্রযুক্তি না পৌঁছায়। কিন্তু পাকিস্তানের ছোঁড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটির ক্ষেত্রে চিনের সেই আত্মঘাতী প্রযুক্তি কাজ করেনি, ফলে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় এটি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাতে চলে আসে।

প্রযুক্তির ফাঁসি ও চিনের নতুন উদ্বেগ

ডিআরডিও এবং ভারতীয় বায়ুসেনার বিজ্ঞানীরা প্রায় এক বছর ধরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জটিল ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা বিপরীতমুখী প্রযুক্তিগত তদন্ত চালান। শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ দ্রুতগতিসম্পন্ন (ম্যাক ৫) এবং ১৪৫ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটির রাডার সিগন্যাল ও গাইডেন্স সিস্টেম এখন ভারতের হাতের মুঠোয়। এই ঘটনার জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বেজিং। চিনের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সংস্থা ‘চায়না এয়ারবোর্ন মিসাইল একাডেমি’ (কামা)-র একটি উচ্চপর্যায়ের ইঞ্জিনিয়ার দল তড়িঘড়ি পাকিস্তান সফর করে সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্রের বাকি লটগুলি খতিয়ে দেখছে।

এই প্রযুক্তিগত সাফল্যের ফলে পাকিস্তান ও চিনের আকাশভিত্তিক রণকৌশল ভারতের কাছে অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে গেল। ভবিষ্যতে এই ধরণের মিসাইল হামলা রুখতে এবং ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলির আত্মরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে এই উদ্ধারকৃত তথ্য অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *