তোলাবাজির জুলুম রুখতেই কি বালির অভিজাত আবাসনে বহিরাগতদের রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব!

তোলাবাজির জুলুম রুখতেই কি বালির অভিজাত আবাসনে বহিরাগতদের রক্তক্ষয়ী তাণ্ডব!

হাওড়ার বেলুড়ের একটি অভিজাত আবাসনে শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তোলাবাজির টাকা না পেয়ে আবাসিকদের মারধর, মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বহিরাগতদের নিয়ে এসে চড়াও হওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একদল মদ্যপ যুবকের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার চাদরে মোড়া একটি অভিজাত আবাসনে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সম্পূর্ণ মারামারির দৃশ্যটি আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে।

নিরাপত্তারক্ষীদের যোগসাজশ ও তোলাবাজির সিন্ডিকেট

আবাসিকদের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে রয়েছে আবাসনেরই নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশের পরোক্ষ মদত। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই অভিযুক্ত যুবক মদ্যপ অবস্থায় দলবল নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওই যুবক গত কয়েক বছর ধরেই ওই আবাসন চত্বরে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল। শুক্রবার রাতে আবাসিকরা সেই অন্যায় দাবির বিরোধিতা করতেই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। শুধু মারধরই নয়, আবাসিকদের ভয় দেখাতে বাইরে থেকে অতিরিক্ত লোক এনে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আইনি পদক্ষেপ

এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন আবাসনের বাসিন্দারা। নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তাঁরা ইতিমধ্যেই বালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি, ঘটনার বিবরণ জানিয়ে বালির বিজেপি বিধায়ক সঞ্জয় সিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছেন আবাসিকরা। বিধায়ককে তাঁরা জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েক বছর ধরেই এই তোলাবাজির জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের। বিধায়ক সঞ্জয় সিং ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও দূরগামী প্রভাব

একটি প্রথম সারির অভিজাত আবাসনের ভেতরে ঢুকে এই ধরনের হামলার ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার কঙ্কালসার রূপটিকেই সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে ওই এলাকার আবাসন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পুলিশ প্রশাসন যদি দ্রুত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা না করে, তবে আগামী দিনে এই ধরনের তোলাবাজি ও দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করার আশঙ্কা থাকছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *