বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে যোগসূত্র, এবার বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাচ্ছে বিজেপি

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও শানু বক্সির বিরুদ্ধে এবার আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এল। নম্বর বাড়িয়ে বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়ার বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি তথা বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছে মালদহ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ এবং বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠাতে চলেছে গেরুয়া শিবির।
নিয়োগ দুর্নীতি ও বিপুল সম্পত্তির অভিযোগ
শানু বক্সির বিরুদ্ধে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি করে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছিল। মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে ‘সাদা খাতার বিডিও’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে এই ধরনের আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস কিছু নথি প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, জলপাইগুড়িতে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ জমি কিনেছেন শানু বক্সি। সরকারের কাছ থেকে সাড়ে সাত কাঠা জমি কেনার অনুমতি নিয়ে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ কাঠা জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে এবং জমির দামেও ব্যাপক হেরফের রয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বতন ফলতার বিডিও থাকাকালীন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ শানু বক্সির বিরুদ্ধে উঠেছিল, তা এই নতুন দুর্নীতির ও পাচার-যোগের অভিযোগে আরও তীব্র আকার ধারণ করল। এই ঘটনার জেরে রাজ্য প্রশাসনে ভুয়ো ও বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া আধিকারিকদের চিহ্নিত করার চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন জেলা মালদহে বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে এক সরকারি উচ্চপদস্থ আধিকারিকের আঁতাতের অভিযোগ ওঠায় তা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলে কড়া পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।