মমতার ‘খারাপ সময়ে’ পাশে থাকার কথা বললেন বিকাশ, সামনে আনলেন চমকে দেওয়া কারণ

মমতার ‘খারাপ সময়ে’ পাশে থাকার কথা বললেন বিকাশ, সামনে আনলেন চমকে দেওয়া কারণ

পেশাদার রাজনীতি আর আইনি পেশার বাধ্যবাধকতা কি সত্যিই আলাদা? নাকি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচারপ্রার্থীর পাশে দাঁড়ানোই একজন আইনজীবীর আসল ধর্ম? সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির হয়ে আদালতে সওয়াল করে বাম শিবিরের অন্দরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রবীণ সিপিএম নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের তীব্র ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতেও দ্বিধা করবেন না।

তৃণমূল নেতার পক্ষে মামলা লড়ায় সিপিএম কর্মীদের একাংশ সমাজমাধ্যমে এবং দলীয় স্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেক কর্মীই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করছেন। দলীয় কর্মীদের এই ক্ষোভের জবাবে বিকাশ ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, পেশা এবং রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা এক ধরণের বোকামি। আইনি পেশায় যদি কোনো নীতিগত সংঘাত না থাকে, তবে বিচারপ্রার্থীকে সাহায্য করাই তাঁর মূল দায়িত্ব। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, সব পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসলে বামপন্থীদের মূল আদর্শ। একজন মানুষ অপরাধী হলে আদালতে তাঁর বিচার হবে, কিন্তু বামপন্থী আদর্শের দোহাই দিয়ে কাউকে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

রাজনৈতিক ক্ষোভ বনাম পেশাদারিত্বের লড়াই

বিতর্কের মূল উৎস হলো তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওঠা আয়বহির্ভূত সম্পত্তির মামলা, যেখানে বিজেপির এক বিধায়কের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। নিজের সওয়ালের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতা কোনো সিপিএম কর্মীকে খুন বা মারধর করেননি, যার ফলে কোনো নীতিগত সংঘাত তৈরি হতে পারে। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির হিসাব দেখার জন্য আয়কর দফতর বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থা রয়েছে। এই সূক্ষ্ম আইনি ও পেশাদারী বোধটি সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীরা বুঝতে পারছেন না বলেই এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা আসলে এক ধরণের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা।

দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্ক

বিকাশ ভট্টাচার্যের এই নজিরবিহীন মন্তব্য ও অনড় অবস্থান রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে এটি যেমন প্রমাণ করে যে আইনি পেশার নৈতিকতা অনেক সময় দলীয় রাজনীতির সীমারেখাকে অতিক্রম করে যায়, অন্যদিকে এটি বামফ্রন্টের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল বা ভাবাবেগে বড় ধাক্কা দিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাম কর্মীরা মাঠে-ঘাটে লড়াই করছেন, সেই দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষে দলের এক প্রধান আইনি মুখের দাঁড়ানোর বার্তা রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *