প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মান্যতা, জ্বালানি বাঁচাতে এবার বিকাশ ভবনেও শুরু হল ওয়ার্ক ফ্রম হোম

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মান্যতা, জ্বালানি বাঁচাতে এবার বিকাশ ভবনেও শুরু হল ওয়ার্ক ফ্রম হোম

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এক অভিনব পদক্ষেপ দেখা গেল কলকাতায়। দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বাঁচাতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারি স্তরে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার যে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন, এবার তা কার্যকর হতে শুরু করল পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রশাসনিক সদর দফতর বিকাশ ভবনে। পেট্রোল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বিকাশ ভবনের সিনিয়র আধিকারিকদের জন্য এই বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট ও কৃচ্ছ্রসাধন

পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে খনিজ তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে মে মাসের ১৪ তারিখ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের জ্বালানি বাঁচাতে পুনরায় ওয়ার্ক ফ্রম হোম পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব নীতিকে মান্যতা দিয়েই দিল্লির পর এবার কলকাতাতেও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গেছে, আপাতত সিনিয়র আধিকারিকদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। এখনই সমস্ত স্তরের কর্মীদের এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, যাতে সরকারি কাজের স্বাভাবিক গতি কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়।

বিদ্যুৎ ও পেট্রোল বাঁচানোর একগুচ্ছ কড়া নিয়ম

বিকাশ ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বা মিটিং সশরীরে উপস্থিত থেকে করার পরিবর্তে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। অফিসে লিফটের ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ‘পুল কার’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অপচয় রুখতে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটার পর অফিসের অপ্রয়োজনীয় সমস্ত আলো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি

ইতিমধ্যেই দিল্লির বিজেপি সরকার তাদের সমস্ত সরকারি অফিসে সপ্তাহে দুই দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম ঘোষণা করেছে এবং অফিসারদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ কমিয়ে মাসে ২০০ লিটার করেছে। দিল্লির পর পশ্চিমবঙ্গের বিকাশ ভবনে এই সাশ্রয় নীতির প্রয়োগ আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি দফতরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কাজের গতি ও ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *