চাকরির নামে প্রতারণা ও মহিলাকে জাতিগত হেনস্থা, শ্রীঘরে হেমতাবাদের দাপুটে তৃণমূল নেতা মজিবুর

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে বেকার যুবকদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং ক্ষমতার দম্ভে এক গৃহবধূকে জাত তুলে চরম অবমাননা করার জোড়া অভিযোগে গ্রেফতার হলেন উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান। শনিবার পুলিশ তাকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুললে বিচারক অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃত মজিবুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা খাতুন হলেন উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের বর্তমান ভূমি কর্মাধ্যক্ষ। ফলে জেলা পরিষদের প্রভাবশালী নেত্রীর স্বামীর এই কীর্তি ও পুলিশের হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
চাকরির টোপে লাখ লাখ টাকার জালিয়াতি
এলাকার মানুষের অভিযোগ, মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সেচ দপ্তরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা লুটে নেওয়ার কারবার চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। অসহায় বেকারদের সরকারি চাকরির ভুয়ো স্বপ্ন দেখিয়ে এই শাসক নেতা দিনের পর দিন লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটে পুরছিলেন। সর্বস্ব খোয়ানো ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের কপালে জুটত শুধুই নেতার অনুগামীদের হুমকি ও গালিগালাজ। অবশেষে প্রতারিতদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হেমতাবাদ থানার পুলিশ ওই নেতার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে।
গৃহবধূকে জাতিগত হেনস্থার অভিযোগ
আর্থিক কেলেঙ্কারির পাশাপাশি এই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে এক গৃহবধূকে সামাজিক ও জাতিগতভাবে চরম হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার হেমতাবাদেরই এক স্থানীয় মহিলাকে জাত তুলে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ করেন এই তৃণমূল নেতা। ওই নিগৃহীতা মহিলা হেমতাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন বিরোধী (SC/ST) আইনে মজিবুরের বিরুদ্ধে আরও একটি নতুন মামলা রুজু করে।
হেমতাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নেতার খাঁচাবন্দি হওয়ার খবর পেতেই তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক আর্থিক তছরুপ ও জুলুমবাজির অভিযোগ থানায় জমা পড়তে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা সামনে আসতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী শিবির। তারা এই জালিয়াতিকে তৃণমূলের মজ্জাগত দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেগে দিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে। শাসক দলের অন্দরের এই কেলেঙ্কারি নিয়ে এখন জেলা জুড়ে তুমুল তরজা চলছে। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির ফলে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব যেমন চরম অস্বস্তিতে পড়েছে, তেমনই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর থেকে নিগৃহীতা ও প্রতারিতদের নিরাপত্তা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।