১৪ বছরের কিশোরীকে লরিতে গণধর্ষণ: স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার স্বামী ও দেওর, চাঞ্চল্যকর ঘটনা

১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে লরিতে তুলে গণধর্ষণ, সহায়তাকারী স্ত্রীসহ আটক ৩
তামিলনাড়ুর তিরুবন্নামালাইয়ের বন্দবাসী এলাকায় এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংস অপরাধে জড়িত অভিযোগে এক নারীসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই পুরুষের পাশাপাশি অপরাধে মদত দেওয়ার দায়ে ওই নারীরও জেল হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পোলুর তালুকের বাসিন্দা ওই কিশোরী প্রতি মাসে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বন্দবাসীর সাইদানি বিবি দরগাতে আসত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সেই দরগাতেই রানীপেট জেলার আরাক্কোণমের বাসিন্দা ফাতেমা (৩০) নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে ফাতেমা ওই কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং কৌশলে তাকে ফুসলিয়ে আরাক্কোণমে নিয়ে যায়। সেখানে ফাতেমা তাকে তার স্বামী ইমরান বাশা (৩৫) এবং দেবর আজমল বাশার (৩০) হাতে তুলে দেয়।
লরির ভেতর অমানুষিক নির্যাতন
অভিযোগ রয়েছে, ইমরান ও আজমল ওই কিশোরীকে একটি লরিতে করে বেঙ্গালুরু নিয়ে যাওয়ার পথে লরির ভেতরেই তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। বেঙ্গালুরুতে পৌঁছানোর পর কিশোরীটি কোনোমতে লরি থেকে পালিয়ে স্থানীয় মানুষের সাহায্য চায় এবং তার ওপর ঘটে যাওয়া অমানুষিক নির্যাতনের কথা জানায়। কিশোরীর কান্নায় বিচলিত স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে ধরে ফেলে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বেঙ্গালুরু পুলিশ কিশোরীটিকে উদ্ধার করে বন্দবাসী থানাকে বিষয়টি জানায়।
আইনি পদক্ষেপ
বর্তমানে ওই কিশোরীকে একটি নারী সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বন্দবাসী পুলিশ বেঙ্গালুরু থেকে অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে। জেরার মুখে ফাতেমা তার স্বামী ও দেবরের এই জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তার কথা স্বীকার করে। ধৃত তিনজনের বিরুদ্ধেই পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে অভিযুক্ত তিনজনকে ভেলোর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা এলাকায় নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।