অবৈধ বালি পাচার আটকাল পুলিশ

উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের চেল নদী থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি উপায়ে বালি তোলার বড়সড় প্রচেষ্টা বানচাল করল রাজ্য পুলিশ। সরকারি কড়া নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নদীর বুক থেকে বালি পাচারের খবর পাওয়া মাত্রই জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ চেল নদীর চরে আকস্মিক অভিযান চালায়। সেখান থেকে বালি ভর্তি একটি ট্রাক্টরের ট্রলি উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এই মেগা অভিযানের খবর আগেভাগে পেয়ে যাওয়ায় চক্রের মূল পান্ডা ও চালকেরা নদীগর্ভ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল ও পাচার চক্রের সক্রিয়তা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুয়ার্সের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করতে নদীর চিল ও চরে বালি বা পাথর তোলার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং সুনির্দিষ্ট সরকারি নির্দেশিকা রয়েছে। তা সত্ত্বেও রাতের অন্ধকারের পাশাপাশি প্রকাশ্য দিবালোকে চেল নদী থেকে বালি মাফিয়ারা অবৈধভাবে ট্রাক্টর লাগিয়ে দেদার বালি তুলছিল। গোপন সূত্রে এই অবৈধ খনন ও পাচারের নিখুঁত খবর ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশের কাছে পৌঁছায়।
পুলিশের ঝটিতি অভিযান ও মাফিয়াদের খোঁজে তল্লাশি
খবর পাওয়া মাত্রই ক্রান্তি ফাঁড়ির একটি বিশেষ পুলিশ দল রবিবার চেল নদীর চরে হানা দেয়। দূর থেকে পুলিশের গাড়ি আসতে দেখেই বালি তোলার কাজে যুক্ত শ্রমিক এবং ট্রাক্টরের চালকেরা গাড়ি ফেলে যে যার মতো নদীর দুর্গম চরের দিকে গা ঢাকা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বালি বোঝাই ট্রলি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে এসেছে। ক্রান্তি ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পলাতক বালি মাফিয়া ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের ডেরাগুলোতে চিরুনি তল্লাশি চালাতে পুলিশের বিশেষ দল গঠন করে অভিযান জারি রাখা হয়েছে।
এক ঝলকে
- ডুয়ার্সের চেল নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তোলার অভিযোগে একটি বালি ভর্তি ট্রাক্টরের ট্রলি আটক করল ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ।
- সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে নদীর বুক থেকে বালি মাফিয়ারা এই পাচার চক্র চালাচ্ছিল বলে গোপন সূত্রে খবর পায় প্রশাসন।
- নদীর চরে পুলিশের ঝটিতি হানা দেখে বালি ভর্তি গাড়ি ও ট্রলি ফেলে রেখেই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় পাচারকারীরা।
- পলাতক পাচারকারীদের সনাক্ত করতে এবং এলাকায় অবৈধ বালি খনন পুরোপুরি রুখতে পুলিশের তরফে ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে।