বাসন্তীতে সাতসকালে ফিশারি থেকে অস্ত্র উদ্ধার, উদ্ধার ৩টি বন্দুকসহ প্রচুর গুলি ও বোমা বাঁধার সরঞ্জাম!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানা এলাকায় ফের বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার সকালে বাসন্তীর মহেশপুর এলাকার একটি ফিশারি (ভেড়ি) থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, প্রচুর পরিমাণ তাজা গুলি এবং বোমা তৈরির বেশ কিছু ক্ষতিকর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। পঞ্চায়েত স্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য রাজ্যজুড়ে পুলিশের বিশেষ নজরদারির মধ্যেই প্রত্যন্ত এলাকার এক ফিশারি থেকে এই ধরনের আধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সন্দেহজনক ব্যাগ ঘিরে আতঙ্ক ও পুলিশের তৎপরতা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরবেলা মহেশপুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ওই ফিশারির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি সন্দেহজনক প্যাকেট ও কিছু জিনিসপত্র পড়ে থাকতে দেখেন। উৎসুক হয়ে একটু কাছে যেতেই তাঁদের চোখে পড়ে ব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখা চকচকে বন্দুক ও গুলির বাক্স। এর পরেই কালবিলম্ব না করে গ্রামবাসীরা বাসন্তী থানায় খবর দেন। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বাসন্তী থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত মহেশপুরের ওই ফিশারিতে পৌঁছায় এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রভাণ্ডার ও পাচার চক্রের খোঁজে তদন্ত
পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই ফিশারির পাশ থেকে ৩টি দেশি বন্দুক, বেশ কয়েক রাউন্ড তাজা কার্তুজ বা গুলি এবং বোমা বাঁধার সুতলি ও অন্যান্য বিস্ফোরক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনো বড়সড় অপরাধমূলক কাজ ঘটানোর উদ্দেশ্যে অথবা অন্য কোথাও পাচারের জন্য এই জনহীন ফিশারিকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এই অস্ত্রগুলি কার এবং এই চক্রের পেছনে স্থানীয় কোনো দুষ্কৃতী দল জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফিশারির মালিক ও আশেপাশের সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর মহেশপুর এলাকার একটি জনহীন ফিশারি থেকে ৩টি বন্দুক, প্রচুর গুলি ও বোমা বাঁধার সামগ্রী উদ্ধার হলো।
- রবিবার সকালে ফিশারির পাশে সন্দেহজনক জিনিস পড়ে থাকতে দেখে বাসন্তী থানায় খবর দেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
- খবর পেয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে।
- এলাকায় বড় কোনো অশান্তি পাকানোর উদ্দেশ্যে এই অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল কি না, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।