শেডিংয়ের জেরে বাড়ির বাইরে ঘুম, মাঝরাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরিবারকে পিষে দিল ডাম্পার, মৃত ৪!

তীব্র গরমের মাঝে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে বাঁচতে বাড়ির বাইরে খোলা জায়গায় ঘুমানোই কাল হলো একটি পরিবারের। উত্তরপ্রদেশের বারাবঙ্কি জেলায় মাঝরাতে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চার সদস্যের পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে বারাবঙ্কির ফতেপুর থানা এলাকার ঝানসা গ্রামে। ঘাতক ডাম্পারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর উঠে পড়ায় এই ভয়াবহ বিপর্যয়টি ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে সমগ্র গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তীব্র গরম ও বিদ্যুৎহীনতার মাশুল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী নীরজ নামের এক ব্যক্তি গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ ও ঘরে কারেন্ট না থাকার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। গরমের হাত থেকে বাঁচতে তিনি তাঁর স্ত্রী আরতি এবং তিন সন্তানকে নিয়ে রবিবার রাতে বাড়ির বাইরে রাস্তার ধারে খোলা জায়গায় ঘুমাতে যান। কিন্তু মাঝরাতের পর একটি বেপরোয়া গতির ডাম্পার প্রথমে রাস্তার ধারের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে এবং তারপরেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুমন্ত ওই পরিবারের ওপর সশব্দে উল্টে যায়।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। লাঙল চাপা পড়ার মতো পিষ্ট হয়ে নীরজ এবং তাঁর ১৩ বছর বয়সী ছেলে অনুরাগ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর দুই কন্যাসন্তান অংশিকা (১০) এবং অংশুকে (৬) স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় নীরজের স্ত্রী আরতি গুরুতর জখম হয়েছেন এবং বর্তমানে লখনউয়ের লোহিয়া হাসপাতালে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পলাতক চালকের খোঁজে পুলিশ
গ্রামবাসীদের মতে, পেশায় ট্রাক চালক নীরজ অত্যন্ত পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন এবং সন্তানদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য দিনরাত খাটতেন। কিন্তু একটি রাতের অসতর্কতা ও দুর্ঘটনা সব শেষ করে দিল। দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘাতক ডাম্পারের চালক পলাতক। ফতেপুর থানার পুলিশ ডাম্পারটিকে ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে এবং অভিযুক্ত চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- উত্তরপ্রদেশের বারাবঙ্কিতে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে বাড়ির বাইরে ঘুমাতে গিয়ে ডাম্পারের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু।
- দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গৃহকর্তা নীরজ ও তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়; হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর দুই কন্যাসন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
- মৃত নীরজের স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে লখনউয়ের লোহিয়া হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
- ঘটনার পর ঘাতক ডাম্পারটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করলেও চালক পলাতক, তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ফতেপুর থানার পুলিশ।