ফলতা উপনির্বাচনে ধাক্কা খেল ঘাসফুল, বিশাল ব্যবধানে জিতে তৃণমূলের কেল্লায় পদ্ম ফোটাল বিজেপি!

ফলতা উপনির্বাচনে ধাক্কা খেল ঘাসফুল, বিশাল ব্যবধানে জিতে তৃণমূলের কেল্লায় পদ্ম ফোটাল বিজেপি!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হাইভোল্টেজ ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল ঘিরে নতুন করে পারদ চড়ল বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এই নজিরবিহীন নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি। এককালে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এমন বিপর্যয় ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভোটের গরমিল বনাম মানুষের রায়

নির্বাচনের এই ফলাফল সামনে আসতেই কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গণনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলসহ অন্যান্য বিরোধীদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে একতরফা সুবিধা দেওয়া হয়েছে বিজেপিকে। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত রায় বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই এলাকার মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ব্যালটে উগরে দিয়েছেন।

কড়া টক্কর এবং রাজনৈতিক সমীকরণ

ফলতার এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে এক জটিল সমীকরণ। নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল প্রার্থী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালে সেখানে শাসকদলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল সিপিআইএম। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রের সবকটি বুথেই ইভিএম গরমিলের অভিযোগে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হওয়া সেই পুনর্নির্বাচনে রেকর্ড ৮৭ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে, যার প্রভাব সরাসরি প্রতিফলিত হয়েছে চূড়ান্ত ফলাফলে। এই হারের ফলে ডায়মন্ড হারবার মডেলে তৃণমূলের একাধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।

এক ঝলকে

  • ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
  • গণনা কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ একাধিক নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ তুলে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল।
  • ইভিএম দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
  • ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের কেল্লা হিসেবে পরিচিত এই আসনে তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোয় মূল লড়াই হয়েছিল বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *