“জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে!” প্রভাবশালী নেতার অধ্যাপক ভাইপোর বিরুদ্ধে পুলিশে প্রাক্তন প্রেমিকা

“জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে!” প্রভাবশালী নেতার অধ্যাপক ভাইপোর বিরুদ্ধে পুলিশে প্রাক্তন প্রেমিকা

ক্ষমতার দাপট রুখে অবশেষে বিচারের আশায় পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ নির্যাতিতা যুবতী! বর্ধমান শহরে তীব্র শোরগোল

রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক যুবতীর জীবন দুর্বিষহ করে তোলার অভিযোগ উঠল বর্ধমানের এক কলেজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্ধমান শহরের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের ভাইপো এবং বর্তমান শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা সহ্য করার পর, অবশেষে গত ২ বছরের নীরবতা ভেঙে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবতী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সমগ্র বর্ধমান শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের নেপথ্যে দীর্ঘ নির্যাতন

অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, কলেজে পড়ার সময় ওই অধ্যাপকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কিন্তু প্রেমিকের চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে দুই বছর আগে তিনি এই সম্পর্কে ইতি টানেন। যুবতীর দাবি, সম্পর্ক ভাঙার পর থেকেই নির্যাতন আরও চরম আকার নেয়। বিশেষ করে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দলবল নিয়ে যুবতীর বাড়িতে চড়াও হন এবং একটি রেস্তোরাঁ ও রেলস্টেশনের মতো পাবলিক প্লেসে তাঁকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করেন। এমনকি সম্পর্কে থাকাকালীন কিছু ছবি দেখিয়ে সামাজিক ব্ল্যাকমেইল এবং যুবতীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক হওয়ায় তাঁর হবু স্বামী ও পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা দাবি

এতদিন মুখ না খোলার বিষয়ে যুবতী জানান, অভিযুক্তের কাকার রাজনৈতিক প্রভাব এবং পারিবারিক ক্ষমতার ভয়ে তিনি মারাত্মক আতঙ্কে ছিলেন। তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর সাহস সঞ্চয় করে তিনি আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই অভিযোগের অনুলিপি পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন অভিযুক্ত অধ্যাপক। তাঁর দাবি, ওই যুবতীই তাঁদের সাথে প্রতারণা করেছেন এবং তাঁর পড়াশোনার খরচ অভিযুক্তের পরিবার বহন করেছিল। হেনস্থার বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি পাল্টা মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এক ঝলকে

  • বর্ধমানের এক প্রভাবশালী কাউন্সিলরের অধ্যাপক ভাইপোর বিরুদ্ধে লাগাতার হেনস্থা, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।
  • সম্পর্ক ভাঙার প্রতিশোধ নিতে যুবতীর হবু স্বামী ও পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা।
  • রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের ভয়ে এতদিন মুখ না খুললেও, অবশেষে পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ নির্যাতিতা।
  • সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে যুবতীর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার পাল্টা দাবি অভিযুক্ত অধ্যাপকের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *