ট্রাম্পের এক ফোনেই কাঁপছে মুসলিম বিশ্ব! ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শেষের মাঝেই নতুন কী ফাঁদ?

ট্রাম্পের এক ফোনেই কাঁপছে মুসলিম বিশ্ব! ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শেষের মাঝেই নতুন কী ফাঁদ?

ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধ শেষের আলো, নাকি মুসলিম বিশ্বের ওপর নতুন চাপ?

ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি অবসান ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশ খুব শীঘ্রই একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিশ্বজুড়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নামলেও, মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম দেশগুলোর জন্য এটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে চুক্তির সমান্তরালে আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নজিরবিহীন চাপ দেওয়া শুরু করেছেন।

ট্রাম্পের নতুন সমীকরণ ও আব্রাহাম অ্যাকর্ড

সম্প্রতি ট্রাম্প সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান এবং বাহরাইনের শীর্ষ নেতাদের সাথে ফোনে কথা বলেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ সমাপ্তির পরবর্তী পদক্ষেপ হবে মুসলিম দেশগুলোর ইসরায়েলের সাথে হাত মেলানো এবং মার্কিন মধ্যস্থতায় তৈরি ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ শামিল হওয়া। উল্লেখ্য, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের সাথে আরব বিশ্বের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ঠেকানো। কিন্তু ট্রাম্পের বর্তমান কৌশল অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইরানকেও এই চুক্তির আওতায় আনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বরাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড়।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

আমেরিকার এই আকস্মিক চাপের মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চিরতরে আরব-ইসরায়েল দ্বন্দ্বের অবসান ঘটানো এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন আঞ্চলিক অক্ষ তৈরি করা। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে মুসলিম দেশগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ না করলে আমেরিকার সাথে তাদের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এই কৌশলের বড় প্রভাব পড়তে পারে সৌদি আরবের ওপর। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পূর্বে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে রিয়াদের অবস্থান বর্তমানে বেশ কঠোর। ফলে ট্রাম্পের এই নীতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে, অথবা মুসলিম দেশগুলোর সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন ফাটল তৈরি করতে পারে।

এক ঝলকে

  • ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হতে চলেছে এবং শীঘ্রই দুই দেশ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।
  • ট্রাম্প সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ একাধিক মুসলিম দেশের নেতাদের ওপর ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’-এ যোগ দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করছেন।
  • এই চুক্তির শর্ত না মানলে মুসলিম দেশগুলোর সাথে আমেরিকার ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে মার্কিন সিনেটররা সতর্ক করেছেন।
  • দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা ইরানের পক্ষে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *