ইঞ্জিন বিকল হয়ে শান্তিনিকেতনে আটকে গণদেবতা এক্সপ্রেস, তীব্র গরমে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

রবিবার সকালে হাওড়া থেকে আজিমগঞ্জগামী গণদেবতা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন আচমকা বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে শান্তিনিকেতন স্টেশনে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রইল ট্রেনটি। তীব্র দাহদাহের মধ্যে এই অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে ট্রেনের ভেতরেই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।
মাঝপথে বিকল ইঞ্জিন
পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচী মেনেই রবিবার সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে রওনা দিয়েছিল গণদেবতা এক্সপ্রেস। কিন্তু ট্রেনটি আহমেদপুরের কাছাকাছি পৌঁছাতেই চালকেরা ইঞ্জিনের গতিবিধি ও কার্যক্ষমতায় বড়সড় গলদ লক্ষ্য করেন। বিপদের আশঙ্কা বুঝে চালকেরা তৎক্ষণাৎ রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অত্যন্ত ধীর গতিতে ট্রেনটিকে কোনো রকমে শান্তিনিকেতন স্টেশনে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সকাল ৮টা ১২ মিনিটে ট্রেনটি শান্তিনিকেতন স্টেশনে ঢোকার পর থেকে দীর্ঘ সময় সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে।
ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। অনেক যাত্রীই এই ঘটনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও ঔদাসীন্যকে দায়ী করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাওড়া থেকে ট্রেনটি ছাড়ার আগে যদি ইঞ্জিনটি যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, তবে মাঝপথে এই ধরনের যান্ত্রিক বিপর্যয় ও যাত্রী ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হতো। এই ঘটনার ফলে ওই লাইনের অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচীতেও আংশিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রেল সূত্রের খবর, ইঞ্জিনের ত্রুটি অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় সেটি দিয়ে ট্রেন চালানো কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেলের পক্ষ থেকে দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করা হয়। নতুন ইঞ্জিন এসে পৌঁছানোর পরই ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের জন্য রেলের তরফ থেকে যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে।