চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড, উত্তরপ্রদেশ থেকে ধৃত নবীনসহ ৪ জন এবার সিবিআই হেফাজতে

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলার শিকড়ে পৌঁছতে মরিয়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার হওয়া নবীনকুমার সিং সহ চার অভিযুক্তকে এবার নিজেদের হেফাজতে নিল সিবিআই। রবিবার ধৃতদের বারাসাত এসিজেএম আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের ২ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী মঙ্গলবার অভিযুক্তদের পুনরায় আদালতে হাজির করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হলেন নবীনকুমার সিং, রাজকুমার সিং, বিনয় রাই এবং সঞ্জয় রাই। এর মধ্যে নবীনকুমার সিংকে উত্তরপ্রদেশের মাও জেলার জেল থেকে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে এ রাজ্যে এনে আদালতে তোলা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত নবীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি আগ্নেয়াস্ত্রকে এই মামলায় আলামত হিসেবে যুক্ত করার আবেদনও মঞ্জুর করেছে আদালত।
খুনের নেপথ্য কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি
গত ৬ মে লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক দু’দিন পর মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। ওই হামলায় তাঁর গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হন। মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আপ্তসহায়কের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রথমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্তে নামে এবং উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে মামলার গুরুত্ব ও আন্তঃরাজ্য যোগসূত্রের কারণে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে।
তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ায় এবং ভিন রাজ্য থেকে মূল অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ায় এই অপরাধের নেপথ্যে থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের জট খুলতে পারে। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে সিবিআই আধিকারিকরা খুনের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করছেন। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে, যা অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রমাণ হতে চলেছে। ধৃতদের হেফাজতের এই মেয়াদ ফুরানোর পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কিনা, এখন সেটাই দেখার।