ফলতায় ভেঙে চুরমার ডায়মন্ড হারবার মডেল, রেকর্ড জয়ের পর বার্তা মোদির

বাংলার ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। গোটা রাজ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতাতেও বইল তীব্র গেরুয়া ঝড়। পুনর্নির্বাচনের পর রবিবারের ভোট গণনায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। এই ফলাফলের পর তৃণমূলের দীর্ঘদিনের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। এই রেকর্ড জয়ের পর ফলতার প্রার্থী ও কর্মীদের সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয় এবং ভয়ের রাজনীতির পরাজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভোটের ফলাফল ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রবিবার গণনা শেষে দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামফ্রন্টের সিপিএম প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলের জন্য সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই আসনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোশাল মিডিয়ায় বিজেপি কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, ফলতার জনগণ রায় দিয়েছে। এটি বিজেপির প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অটল আস্থারই প্রতিফলন।
পরাজয়ের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতায় তৃণমূলের এই অভাবনীয় বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়ের রাজনীতি এবং ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। প্রথম দফার ভোটে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন কড়া পদক্ষেপ নিয়ে এখানে পুনর্নির্বাচন করায় সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের খাসতালুক বলে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভায় শাসকদলের পরাজয় রাজ্য রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে। এই ফলের কারণে তৃণমূলের তথাকথিত ‘দুর্গ’ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে ওই অঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।