একই দিনে জোড়া ‘লক্ষ’ জয় জ্যোতির্ময়ের, হারের পর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ওড়ালেন সন্ধ্যারানি!

একই দিনে জোড়া ‘লক্ষ’ জয় জ্যোতির্ময়ের, হারের পর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ওড়ালেন সন্ধ্যারানি!

ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে ফুটে উঠল দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। একদিকে দলের প্রার্থীকে ১ লাখের বেশি ভোটে জিতিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে ১ লক্ষ ফলোয়ারের মাইলফলক ছুঁয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে ভোটে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে নিজের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলটিই মুছে ফেললেন রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক রাজনীতিতে জনসমর্থনের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমের দাপট যে কতটা প্রাসঙ্গিক, রবিবারের এই দুই ঘটনা তারই এক বড় প্রতিফলন।

ডিজিটাল রাজনীতিতে শীর্ষে জ্যোতির্ময়

রবিবার ফলতা জয়ের দিনই জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা ১ লক্ষ স্পর্শ করায় সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে গিয়েছে। বর্তমানে পুরুলিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে তাঁর ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। বেশ কয়েক বছর ধরেই জঙ্গলমহল পুরুলিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে জ্যোতির্ময়ের ফেসবুক পেজেই সবচেয়ে বেশি ‘ভিউ’ ও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যায়, যা রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরও গতি পেয়েছে।

পিছিয়ে অন্যান্য শিবিরের হেভিওয়েটরা

জেলায় জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর ধারেকাছে এই মুহূর্তে অন্য কোনো শিবিরের নেতা নেই। ফলোয়ার্সের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, যার অনুগামী সংখ্যা ৬৫ হাজার। এর পরেই রয়েছেন মানবাজারের বিজেপি বিধায়ক ময়না মুর্মু (৭৪ হাজার) এবং বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো (৪৩ হাজার)। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতোর ফলোয়ার্স যেখানে ২৯ হাজার, সেখানে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুর ফলোয়ার সংখ্যা আটকে রয়েছে মাত্র ২১ হাজারে। এছাড়া তৃণমূল জেলা সভাপতি রাজীবলোচন সোরেনের ফলোয়ার্স ১৪ হাজার এবং কুড়মি নেতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোর ফলোয়ার্স ১৮ হাজার।

পরাজয়ের হতাশা বনাম জনসংযোগের কৌশল

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি নেতাদের মানসিকতা ও ডিজিটাল উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে। ভোটে হারের পর সন্ধ্যারানি টুডুর তড়িঘড়ি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল ডিলিট করার সিদ্ধান্ত মূলত রাজনৈতিক হতাশা এবং সাময়িকভাবে জনসংযোগ থেকে দূরে থাকার প্রবণতাকেই স্পষ্ট করে। বিপরীতে, নির্বাচনী সাফল্যকে হাতিয়ার করে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর মতো নেতারা যেভাবে সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন, তা আগামী দিনে জঙ্গলমহলের তরুণ ভোটারদের টানতে এবং দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা নেবে। ডিজিটাল দুনিয়ার এই ব্যবধান আগামী দিনে পুরুলিয়ার সামগ্রিক নির্বাচনী সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *