“আদিবাসী সমাজ বাঁচলে তবেই বাঁচবে সনাতন ধর্ম!” লালকেল্লায় সুর চড়ালেন আরএসএস নেতা

আদিবাসী সমাজ বাঁচলেই সুরক্ষিত থাকবে সনাতন ধর্ম, অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে মুখর দিল্লি
দিল্লির লালকেল্লা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল আদিবাসী সাংস্কৃতিক সম্মেলনে দেশের মূলস্রোতে জনজাতি সম্প্রদায়ের অবদান এবং তাদের অধিকারের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) অনুমোদিত সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় বনবাসী কল্যাণ আশ্রম’-এর জাতীয় সভাপতি সত্যেন্দ্র সিংহ এই ঐতিহাসিক সমাবেশকে ‘আদিবাসী সমাজের কুম্ভ’ বলে আখ্যা দেন। বীর বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘জনজাতি সাংস্কৃতিক समागम’ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, ভারতের সনাতন সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রকৃত বাহক এবং রক্ষক হলো এই আদিবাসী সম্প্রদায়।
ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের আহ্বান
সম্মেলনে আদিবাসীদের নিয়ে ব্রিটিশ আমলের তৈরি হওয়া নেতিবাচক ও বিকৃত ঔপনিবেশিক মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। অতীতে ব্রিটিশ শাসকরা নিজেদের স্বার্থে আদিবাসীদের অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বক্তারা মনে করিয়ে দেন, আদিবাসী সমাজ কোনো অপরাধী চক্র নয়, বরং তারা এই দেশের গৌরব। ভারতের আত্মার আসল প্রতিফলন ঘটে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে, যা হাজার বছর ধরে দেশের সীমান্ত ও বনভূমিকে রক্ষা করে আসছে।
ধর্মান্তকরণ প্রতিরোধ ও আইনি অধিকার রক্ষা
বর্তমানে ভারতের আদিবাসী সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান সংকট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সুপরিকল্পিত ধর্মান্তকরণকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসীদের খ্রিষ্টধর্ম বা অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই রূপান্তরের ফলে আদিবাসীদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেমন বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে, তেমনই গ্রামীণ জনজাতিদের সাংবিধানিক অধিকার ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রান্তিক এই জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষা না হলে দেশের সনাতন পরিকাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আদিবাসী পরিচয় টিকিয়ে রাখতে এবং তপশিলি উপজাতিদের জন্য বরাদ্দ সমস্ত আইনি ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
এক ঝলকে
- দিল্লির লালকেল্লা ময়দানে বিরসা মুন্ডার ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশাল আদিবাসী সাংস্কৃতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
- আদিবাসী সমাজ ও সংস্কৃতিকে সনাতন ধর্ম এবং ভারতের মূল সভ্যতার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- ব্রিটিশ আমলের চাপিয়ে দেওয়া নেতিবাচক ও বিকৃত জনজাতি ধারণাকে মুছে ফেলে আদিবাসীদের দেশের গৌরব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান।
- ধর্মান্তকরণের কারণে আদিবাসী সংস্কৃতি নষ্ট হওয়া এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি।