পরকীয়ার চরম পরিণতি: স্বামীকে খাটে বেঁধে ৯ বার ইলেকট্রিক শক, তারপর বিষ খাইয়ে খুন!

পরকীয়ার চরম পরিণতি: স্বামীকে খাটে বেঁধে ৯ বার ইলেকট্রিক শক, তারপর বিষ খাইয়ে খুন!

পরকীয়া প্রেমের জেরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, স্বামীকে কারেন্ট ও বিষ দিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর উন্মোচন

উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক যুবককে নির্মমভাবে খুন করার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম পবন কুমার ঠাকুর। অভিযোগ, পবনের স্ত্রী আঁচল তার প্রেমিক অঙ্কিত, বোন শিখা এবং বোনের প্রেমিক অজয় দিবাকরকে সঙ্গে নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ২২ মে রাতে মুরাদাবাদের মাঝোলা থানা এলাকার হাইডিল কলোনিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতের স্ত্রী ও শ্যালিকাসহ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।

পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও নির্মম নির্যাতন

তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রী আঁচলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করার কারণেই পবনকে সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার রাতে পবন বাড়ি ফিরলে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক চারপায়ার সাথে বেঁধে ফেলে। এরপর তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে, পবনের বুকে, হাতে ও পায়ে অন্তত নয় বার বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শকের আঘাত করা হয়েছে। কারেন্টের ঝটকাতেও মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় তাকে জোর করে বিষাক্ত তরল পান করানো হয়। এই নৃশংসতার সময় নিহতের স্ত্রী তার প্রেমিকের সাথে মত্ত ছিল এবং পরে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর জন্য হাসপাতালে কান্নার নাটকও করে।

পূর্বাভাস ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে পবন নিজের জীবননাশের আশঙ্কা আগেই করেছিলেন। তিনি তার বোনদের আগে থেকেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে, তার কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে তা যেন আত্মহত্যা বলে ধরে নেওয়া না হয়। ময়নাতদন্তের অকাট্য প্রমাণ এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চারজনকেই গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

এক ঝলকে

  • উত্তর প্রদেশের মুরাদাবাদে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পবন কুমার ঠাকুর নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
  • স্ত্রী আঁচল, তার বোন ও তাদের প্রেমিকরা মিলে পবনকে চারপায়ায় বেঁধে ৯ বার কারেন্টের শক দেয় এবং পরে জোর করে বিষ খাইয়ে হত্যা করে।
  • মৃত্যুর আগে পবন তার বোনদের কাছে নিজের জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে স্ত্রী সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।
  • ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশ স্ত্রী ও শ্যালিকাসহ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *