বিপর্যয়ের পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ, দল ছাড়ার হিড়িক রুখতে মমতাকে বড় বার্তা কাকলির

বিপর্যয়ের পর ক্ষোভের বিস্ফোরণ, দল ছাড়ার হিড়িক রুখতে মমতাকে বড় বার্তা কাকলির

ভোটের ধাক্কায় বেসামাল শাসকশিবির। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এবার তৃণমূলের অন্দরে প্রথম বড়সড় ভাঙন ও বিদ্রোহের সুর দেখা গেল। উত্তর ২৪ পরগনার দলীয় সভাপতি এবং লোকসভার প্রাক্তন মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল ও ক্ষোভকে প্রকাশ্য রাস্তায় এনে ফেলেছে। রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এই বর্ষীয়ান নেত্রীর আচমকা পদত্যাগ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ঘটনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আইপ্যাক বিরোধিতাই কি মূল কারণ?

দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সুব্রত বক্সীকে পাঠানো চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি তোপ দেগেছেন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, ভোটের এই সর্বনাশের মূলে রয়েছে ওই বহিরাগত সংস্থা। একুশ-বাইশ বছরের ছেলেমেয়েরা অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মীদের যেভাবে হেনস্থা ও ধমক দিয়েছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। টিকিট পাওয়ার জন্য ওই সংস্থার তৈরি করে দেওয়া পথ যে ভুল ছিল, তা এবারের নির্বাচনী ফলাফলই প্রমাণ করে দিয়েছে।

নেত্রীর দূরত্ব এবং আগামী দিনের প্রভাব

সাংবাদিক বৈঠকে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন বারাসাতের এই সাংসদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার কোনো উপায় নেই, কারণ তাঁকে গত কয়েক বছর ধরে ফোনে পাওয়াই যায় না। দলনেত্রীর উদ্দেশে তাঁর পরামর্শ, দল যদি ভুঁইফোঁড় সংস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আবার সৎ, নিষ্ঠাবান ও পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ শুরু না করে, তবে আগামী দিনে তৃণমূলের ভাবমূর্তি উদ্ধার করা কঠিন হবে।

এই ইস্তফা এবং ক্ষোভের প্রভাব শাসকদলের জন্য গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ভোটের ফল প্রকাশের পর কাকলির বাড়ির সামনে তৃণমূলের একাংশের হামলা বা জবরদখলের চেষ্টা এবং অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়া, এই সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দলের ভেতরের ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। প্রবীণ নেতৃত্বের এই বিদ্রোহ আগামী দিনে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ভেঙে দিতে পারে এবং এর ফলে অন্যান্য জেলাতেও দলের পুরনো বনাম নব্য শিবিরের লড়াই তীব্র রূপ ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *