ঋতুস্রাবের আগে সঙ্গীর ওপর রাগ বাড়ে তরুণীদের, নেপথ্যের কারণ কী

মাসের বিশেষ কয়েকটি দিন প্রায় প্রতিটি নারীর কাছেই এক কঠিন সময়। পেটে-কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা, মাথা ব্যথা কিংবা শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি এই সময়ে বড় হয়ে দেখা দেয় মেজাজ হারানোর সমস্যা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও আয়ুর্বেদশাস্ত্র বলছে, শুধু ঋতুস্রাবের দিনগুলোতেই নয়, তার আগের কয়েকটি দিনেও প্রায় ৮০ শতাংশ নারী তীব্র মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। এই সময়ে অনেকেই কোনো কারণ ছাড়াই হুট করে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ অর্থাৎ সঙ্গীর ওপর প্রচণ্ড রেগে যান বা মেজাজ হারান।
শারীরিক পরিবর্তন ও মানসিক অস্থিরতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতুস্রাবের আগে নারীদের শরীরে হরমোনের তারতম্যের কারণে তীব্র মুড সুইং বা মেজাজের ওঠানামা হয়। এই সময়ে অনেকে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, সামান্য কারণে কেঁদে ফেলেন কিংবা চিৎকার করেন। অনেকে আবার নিজের মতো একা সময় কাটাতে পছন্দ করেন, আর সেই একাকীত্বে কেউ বাধা দিলে তারা প্রচণ্ড বিরক্ত হন। এছাড়া, এই সময়ে অনেকের খাবারে অরুচি দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকার ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে সঙ্গীর ওপর। পোশাক নষ্ট হওয়ার ভয় ও সামাজিক লজ্জার কারণে তৈরি হওয়া মানসিক চাপও এই খিটখিটে মেজাজের অন্যতম বড় কারণ।
প্রতিকার ও সম্পর্কের ওপর প্রভাব
এই সাময়িক আচরণ অনেক সময় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক জীবনযাত্রা ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ঋতুস্রাবের আগের দিনগুলোতে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল ও জলজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফল ও প্রোটিন রাখা জরুরি, অন্যথায় রক্তাল্পতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। এই সংবেদনশীল সময়ে সঙ্গীদেরও অতিরিক্ত সহনশীল ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত কলহ এড়িয়ে সম্পর্ককে আরও মধুর করতে সাহায্য করে।