ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় গ্রেফতার অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য

ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় গ্রেফতার অনুব্রত ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার মামলায় গ্রেফতার হলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বাপ্পাদিত্য দাস। তিনি সাঁইথিয়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রূপা দাসের স্বামী হিসেবেও এলাকায় প্রভাবশালী। দীর্ঘদিন পর এই হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

পুরনো অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাঁইথিয়া পুরসভা এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন বিরোধীদলের কর্মী ও সমর্থকদের মারধর এবং তাঁদের বাড়িঘর ভাঙচুরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল সাঁইথিয়া থানায়। নাম জড়িয়েছিল তৃণমূল নেতা বাপ্পাদিত্য দাসের। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সেই সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন কোনো দৃশ্যত পদক্ষেপ করা হয়নি। অবশেষে ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর পুলিশ সক্রিয় হয়ে এই প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেফতার করল।

রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতেও বীরভূমে তাঁর অনুগামীদের একাংশের দাপট বজায় ছিল। বাপ্পাদিত্য দাসের এই গ্রেফতারি মূলত সেই বলয়ে একটি বড় ধাক্কা। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে এই পদক্ষেপ যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে, তেমনই বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগকে মান্যতা দিল। অন্যদিকে, সামনে থাকা রাজনৈতিক সমীকরণগুলোতে এই গ্রেফতারি শাসক দলের অন্দরে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *