ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখছেন? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন কিডনির মারাত্মক বিপদ!

ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখছেন? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন কিডনির মারাত্মক বিপদ!

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, যানজট, দীর্ঘ সময়ের মিটিং কিংবা বাইরে থাকাকালীন পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব— কারণ যাই হোক না কেন, দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস আমাদের অনেকেরই রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে সাধারণ মনে হলেও, মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞদের (ইউরোলজিস্ট) মতে এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত বিপজ্জনক। সাময়িক স্বস্তির জন্য তৈরি হওয়া এই প্রবণতা পরবর্তীতে শরীরে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।

স্বল্পমেয়াদী শারীরিক অস্বস্তি ও সংক্রমণ

চিকিৎসকদের মতে, মূত্রথলি বা ব্লাডার যখন আংশিকভাবে পূর্ণ থাকে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাব ধারণ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মূত্রথলি অতিরিক্ত পূর্ণ অবস্থায় থাকলে তা পুরো মূত্রতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তলপেটে তীব্র ব্যথা, মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া এবং প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস মূত্রনালীর সংক্রমণের (ইউটিআই) ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়; কারণ নিয়মিত মূত্রথলি খালি না হলে সেখানে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া সহজেই দীর্ঘ সময় ধরে বাসা বাঁধার সুযোগ পায়।

অনেকেই ভ্রমণের সময় বা ঘরের বাইরে থাকলে সুলভ শৌচালয় ব্যবহার এড়াতে জল খাওয়া কমিয়ে দেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রাখেন। এই আচরণের ফলে শরীরে মারাত্মক জলশূন্যতা তৈরি হয়, যা প্রস্রাবে ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক বা ক্রিস্টাল গঠনের পথ সুগম করে। এর ফলে মূত্রথলির ভেতরের আবরণে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে এবং একপর্যায়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া বা মূত্রথলিতে তীব্র খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দেয়।

দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি ও কিডনির বিকলতা

দীর্ঘদিন ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস বজায় রাখলে মূত্রথলির পেশিগুলো স্থায়ীভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মূত্রথলি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ফেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্লাডার সম্পূর্ণ খালি করার ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে ভেতরে সবসময় কিছুটা প্রস্রাব জমে থাকে। এই জমে থাকা তরল থেকে বারবার ইনফেকশন এবং মূত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হতে পারে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন যে, মূত্রথলিতে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে একসময় কিডনির কার্যক্ষমতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

বিশেষ করে প্রোস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী, ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু এবং বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মূত্রথলি ও কিডনি সচল রাখতে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো— প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে তরল ও জল পান করতে হবে এবং প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর নিয়ম মেনে প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *