তোলাবাজির খেসারত, সল্টলেকে তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় ফেলে গণধোলাই অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের

তোলাবাজির খেসারত, সল্টলেকে তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় ফেলে গণধোলাই অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় তোলাবাজি দমনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলর ও নেতা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। এরই মধ্যে সল্টলেকে তোলাবাজির অভিযোগে স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে গণধোলাই দিলেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নেতাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিতে বাধ্য হয়।

বিধায়কের সামনেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ

ঘটনার সূত্রপাত সল্টলেকের সিএ মার্কেটে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বাজার পরিদর্শনে গেলে ব্যবসায়ীরা তাঁর কাছে চন্দন ভট্টাচার্য নামে এক স্থানীয় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দোকানের জন্য জায়গা দেওয়ার নাম করে ওই নেতা তাঁদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজি চালাচ্ছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিধায়ক চন্দন ভট্টাচার্যকে সেখানে ডেকে পাঠালে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। এতেই ব্যবসায়ীদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা চন্দনকে ঘিরে ধরে রাস্তায় ফেলে গণধোলাই দেওয়া শুরু করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নেতাকে আটক করে।

রাজনৈতিক পালাবদল ও তোলাবাজি বিরোধী অভিযান

রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তোলাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিধাননগর পুরনিগম এলাকায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, তোলাবাজির অভিযোগে এ পর্যন্ত বিধাননগরের ৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার এবং মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখালকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা তোলাবাজির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান এবং নতুন সরকারের কড়া বার্তার ফলেই সাধারণ মানুষের মনের ভয় কাটছে। সল্টলেকের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা এখন আর মুখ বুজে অন্যায় সহ্য করতে রাজি নন, যার ফলশ্রুতিতে এই গণবিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *