রক্ষকই যখন ভক্ষক! ত্রিপুরায় বাজেয়াপ্ত মাদক চুরির অভিযোগে ৪ পুলিশকর্মী গ্রেফতার

ত্রিপুরায় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই মাদক পাচারকারীদের পথ অনুসরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে পাচার হওয়ার মুখে বাজেয়াপ্ত করা মাদকদ্রব্য লুকিয়ে তা সরিয়ে ফেলার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে চার পুলিশকর্মীকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিপুরার খোয়াই জেলায়। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ইন্সপেক্টর ও দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষেপের পর প্রশাসনিক স্তরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ফাঁস অপরাধ
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০শে মে। তেলিয়ামুড়া থানার একটি পুলিশ টিম মোবাইল পেট্রোলিং বা টহলদারির সময় অবৈধভাবে পাচার হতে যাওয়া একটি বড় কফ সিরাপের চালান বাজেয়াপ্ত করে। নিয়ম অনুযায়ী এই মাদকদ্রব্য সরকারি নথিতে রেকর্ড করার কথা থাকলেও, অভিযুক্ত চার পুলিশকর্মী তা করেননি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করার আগেই ওই চালানের একটি বড় অংশ কৌশলে লুকিয়ে সরিয়ে ফেলেন তারা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় ২৪৫টি নিষিদ্ধ কফ সিরাপের বোতল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সরিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রশাসনিক প্রভাব
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইন্সপেক্টর অজিত দেববর্মণ, সাব-ইন্সপেক্টর রাজেন্দ্র রিয়াং ও শম্পা দাস তেলিয়ামুড়া থানায় কর্মরত ছিলেন। অন্যজন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর শচীন্দ্র দেববর্মা ত্রিপুরা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন। খোদ খোয়াই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ এই অভিযোগ দায়ের করেন। গ্রেফতারের পরপরই চারজনকেই চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে এবং স্থানীয় আদালতে তোলা হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে গভীর কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রক্ষীদের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন পুলিশের ভাবমূর্তি ও বিশ্বস্ততা সংকটের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে তা সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের সরকারি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে বিশ্বাসভঙ্গ, পদমর্যাদার অপব্যবহার, চুরি ও এনডিপিএস (NDPS) আইনের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।