“আপনার তো…” — মেলোনিকে চকোলেট উপহার, মোদিকে কী ইঙ্গিত দিলেন মমতা?

“আপনার তো…” — মেলোনিকে চকোলেট উপহার, মোদিকে কী ইঙ্গিত দিলেন মমতা?

ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেলোডি’ চকোলেট উপহার দেওয়ার ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি ছাপিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে এক বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সুসম্পর্কের রসায়ন সমাজমাধ্যমে ‘মেলোডি’ ফ্রেম হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ইটালি সফরে মেলোনির হাতে এই চকোলেট তুলে দেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হতেই তা ভিন্ন এক মাত্রা পেয়েছে। এই ঘটনার জেরে মেলোডি চকোলেটের প্রস্তুতকারক সংস্থা পার্লের শেয়ারের দাম যেমন একলাফে উর্ধ্বমুখী হয়েছে, তেমনই এর বাণিজ্যিক প্রভাব পড়েছে বাজারেও। তবে এই চকোলেট কূটনীতিকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।

কূটনৈতিক সৌজন্য বনাম অভ্যন্তরীণ সংকট

এই চকোলেট উপহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শাণিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে দেশবাসীকে বিদেশযাত্রা এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নিজে কেন একের পর এক বিদেশ সফর করছেন। দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই চকোলেট কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে না দিয়ে দেশের শিশুদের দেওয়া যেত। একই সুরে রাহুল গান্ধীও কটাক্ষ করে বলেছেন, দেশের কৃষক, যুবক ও সাধারণ মানুষ যখন অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের প্রচারণামূলক আচরণ মানায় না।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিরোধীদের ক্ষোভের কারণ

এই বিতর্কের নেপথ্যে রয়েছে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি। বিরোধীদের মূল ক্ষোভের কারণ হলো, একদিকে যখন পার্লের শেয়ারের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে তখন দেশের সার্বিক শেয়ার বাজার নিম্নমুখী। লোকসভা ভোট মেটার পরপরই রান্নার গ্যাস এবং এক সপ্তাহের মধ্যে চারবার পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ায় আমজনতার ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা বোঝাতে চাইছেন যে, অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরনের বিষয়গুলোকে সামনে আনা হচ্ছে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে দেশের অর্থনীতি ও সংসদের অন্দরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *