দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাইয়ে হস্তক্ষেপ নয়! ভারতকে হুঁশিয়ারি চিনের

বৌদ্ধ ধর্মগুরু দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় নয়াদিল্লি বা অন্য কোনও দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বেজিং। চিনের দাবি, এই নির্বাচন সম্পূর্ণ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার কেবল চিনা সরকারেরই রয়েছে।
শতাব্দীর প্রাচীন প্রথা বনাম বেজিংয়ের দাবি
ভারতে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং এই বিষয়ে চিনের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দলাই লামার উত্তরসূরি নির্বাচন বহু শতাব্দীর ধর্মীয় রীতি এবং ঐতিহাসিক প্রথা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। গোটা প্রক্রিয়াটি চিনা সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে হওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমান ১৪তম দলাই লামাকেও একই সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে বেজিং। একই সঙ্গে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় সক্রিয় ‘সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চিন জানিয়েছে, তিব্বতি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার কোনও অধিকার তাদের নেই।
সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আকস্মিক হুঁশিয়ারির নেপথ্যে রয়েছে ধর্মশালায় তিব্বতি নির্বাসিত সরকারের রাজনৈতিক তৎপরতা। আগামী ২৭ মে সেন্ট্রাল টিবেটান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান পেনপা সেরিং দ্বিতীয়বারের জন্য শপথ নিতে চলেছেন, যেখানে বর্তমান দলাই লামার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগেই চিনের এমন বিবৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
১৯৫৯ সালে তিব্বত থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া দলাই লামাকে বরাবরই ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে দেখে আসছে বেজিং। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এই ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রভাব ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দলাই লামার উত্তরসূরি তিব্বতের বাইরে নাকি চিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা তিব্বতের অভ্যন্তর থেকে নির্বাচিত হবে, তা নিয়ে আগামী দিনে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।