কাদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব, বুধ-বৃহস্পতিতেই কাটছে শুভেন্দুর ক্যাবিনেট জট!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের পর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন অধরাই রয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ মাত্র ৫ জন মন্ত্রী বর্তমানে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ৪৪টি দফতর। তবে এই প্রশাসনিক স্তব্ধতা কাটাতে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। রাজনৈতিক মহলের খবর, আগামী বুধ কিংবা বৃহস্পতিবারের (২৭ বা ২৮ মে) মধ্যেই চূড়ান্ত হতে চলেছে শুভেন্দুর পূর্ণাঙ্গ ক্যাবিনেট।
দিল্লি সফর শেষে চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহর
মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি সফর সম্পন্ন করেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর ম্যারাথন বৈঠক হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত মেলার পরেই এখন দফতর বণ্টনের ফাইল চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে। বর্তমানে অগ্নিমিত্রা পল, দিলীপ ঘোষ, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুধিরাম টুডু একাধিক মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নতুন মন্ত্রীরা শপথ নিলে এই পাঁচজনের কাঁধ থেকে কাজের চাপ কিছুটা কমানো হবে এবং রাজ্য প্রশাসনে গতি আসবে।
রদবদল ও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা
দলীয় সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অগ্নিমিত্রা পলের চমৎকার পারফর্ম্যান্সের কারণে তাঁকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরেই স্থায়ী করা হতে পারে, তবে তাঁর হাত থেকে নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরটি সরিয়ে শ্যামপুকুরের বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তী অথবা রত্না দেবনাথকে দেওয়া হতে পারে। কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর তথা বিধায়ক সজল ঘোষ পেতে পারেন সমবায় বা ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রক।
পরিবহণ দফতরের দায়িত্ব পেতে পারেন নোয়াপাড়ার অর্জুন সিং। অন্যদিকে, শিক্ষা দফতরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্ত্রক সামলানোর জন্য রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্তের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। আইনমন্ত্রী হিসেবে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এবং কৌস্তভ বাগচীর নাম খসড়ায় রয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রকে দেখা যেতে পারে রুদ্রনীল ঘোষকে, এবং বিনোদন জগতের অপর পরিচিত মুখ পাপিয়া অধিকারীও পেতে পারেন বড় কোনো দায়িত্ব। নিশীথ প্রামাণিকের হাত থেকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর নিয়ে তা তুলে দেওয়া হতে পারে প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বিধায়ক অশোক দিন্দার হাতে। দিলীপ ঘোষের হাতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন থাকলেও কৃষি বিপণন দফতরে নতুন মুখ আসতে পারে।
কৌশলী অবস্থানে মুখ্যমন্ত্রী
তৃণমূল জমানার একাধিক কেলেঙ্কারি ও আরজি কর কাণ্ডের জেরে স্বাস্থ্য ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিল। এই পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য দফতরের মতো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে কাজের সুবিধার্থে বিধাননগরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে স্বাস্থ্যের স্বাধীন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে অথবা বেহালা পশ্চিমের ইন্দ্রনীল খাঁকে এই দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হলে স্থবির হয়ে থাকা প্রশাসনিক কাজে যেমন গতি ফিরবে, তেমনই নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়াও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।