পাইলট ছাড়াই উড়বে বিমান, আকাশপথে এবার বড় চমক দেখাতে চলেছে মার্কিন প্রযুক্তি

বিশ্বজুড়ে বিমান শিল্পে পাইলটের তীব্র ঘাটতি এবং এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমাগত বাড়তে থাকা চাপের মুখে এক যুগান্তকারী সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সম্প্রতি মার্কিন স্টার্টআপ কো ম্পা নি ‘মার্লিন ল্যাবস’ সফলভাবে একটি এআই-চালিত পরীক্ষামূলক বিমান উড়িয়ে আকাশপথে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। ককপিটে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় ব্যবহার বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
চলতি সপ্তাহে পরিচালিত এই বিশেষ ফ্লাইটে টেস্ট পাইলট ম্যাট ডায়মন্ড বিমানটিকে নিজে হাতে নিয়ন্ত্রণ করেননি। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে মৌখিক অনুমতি পাওয়ার পর বিমানের এআই সিস্টেমটি নিজে থেকেই গতিপথ পরিবর্তনের মতো অত্যন্ত জটিল ও জরুরি নির্দেশগুলো নিখুঁতভাবে কার্যকর করে। এই সিস্টেমে মূলত ‘ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং’ বা এনএলপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের পাঠানো যেকোনো বার্তা সহজে ও দ্রুত বুঝতে সক্ষম।
উদ্যোগের কারণ ও লক্ষ্য
বিশ্বব্যাপী এভিয়েশন খাতে পাইলট সংকটের সমাধান এবং পুরোনো এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণই এই পরীক্ষার প্রধান কারণ। তবে মার্লিন ল্যাবসের কর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, সম্পূর্ণ পাইলটবিহীন বাণিজ্যিক বিমান এখনই আকাশে উড়ছে না। সংস্থার বর্তমান লক্ষ্য হলো মানব পাইলটদের পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং ককপিটে মানুষের পাশাপাশি এই এআই সিস্টেম ব্যবহার করে নিরাপত্তা ও কাজের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলা। এই প্রযুক্তি মূলত পাইলটদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মার্কিন প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছে। আমেরিকার পুরোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন পরিবহন সচিব শন ডাফি। তিনি জানান, এআই মানুষের জায়গা দখল করবে না, বরং মানুষকে সাহায্য করবে।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাইলট ইউনিয়ন। আমেরিকা ও কানাডার পাইলটদের বড় সংগঠন ‘এয়ার লাইন পাইলট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি ক্যাপ্টেন জেমস অ্যামব্রোসি জানান, প্রযুক্তিগত উন্নতি অবশ্যই ইতিবাচক, তবে এটি ককপিটে থাকা সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পাইলটদের বিকল্প হতে পারে না। পাইলটদের ইউনিয়নের মতে, বাণিজ্যিক উড়ানের ক্ষেত্রে দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মানুষের উপস্থিতিই যাত্রীদের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় গ্যারান্টি, যার বিকল্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই হতে পারে না।