বেলেঘাটায় ‘ডন’ রাজুর বহুতলে বুলডোজার, ক্রেতাদের রোষানলে শাগরেদ

কলকাতার বেলেঘাটায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ালো এলাকায়। বেলেঘাটার কুখ্যাত প্রোমোটার তথা রাজনৈতিক নেতা রাজু নস্করের বেআইনি বহুতলে সোমবার বুলডোজার চালায় পুরসভা। এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন ফ্ল্যাট ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজুর এক ঘনিষ্ঠ শাগরেদ। উত্তেজিত জনতা রাস্তায় আটকে তাকে চড়-থাপ্পড় মারে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘটনাস্থলে নামতে হয়।
বুলডোজার অ্যাকশন ও গণপিটুনি
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার সবকটিই নিয়ম বহির্ভূতভাবে তৈরি। বর্তমান সরকারের অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরেই এই বহুতলগুলি ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। সোমবার ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু হতেই সেখানে জড়ো হন সর্বস্বান্ত হওয়া ফ্ল্যাটের ক্রেতারা।
ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক শাগরেদ স্কুটিতে চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের নজরে পড়েন। রাজুর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাকে ঘিরে ধরে দফায় দফায় জেরা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে।
প্রতারণার ফাঁদ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক বাসিন্দাকে অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল রাজু নস্কর। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি জমি ও জলাশয় ভরাট করে এই বহুতলগুলি গড়ে তোলা হয়। ফ্ল্যাট কেনার সময় ক্রেতাদের সমস্ত বৈধ নথিপত্র দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, আজ পর্যন্ত কাউকে বিল্ডিং প্ল্যান বা রেজিস্টার্ড এগ্রিমেন্ট পেপার দেওয়া হয়নি।
সরকারের কড়া অবস্থানের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রাজু নস্কর পলাতক এবং তার অফিসটি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই ঘটনার ফলে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাবের কারণে আগামী দিনে আবাসন শিল্পে বেআইনি প্রোমোটিংয়ের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।