ভরাডুবির পরেই তৃণমূলে চরম অস্বস্তি, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মানস ভুঁইয়া!

ভরাডুবির পরেই তৃণমূলে চরম অস্বস্তি, শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মানস ভুঁইয়া!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এবার শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভ ও ফাটল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দলের একাধিক শক্তঘাঁটিতে গেরুয়াঝড়ের পর এবার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া। সোমবার সবংয়ের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দলের চরম বিপর্যয়ের দিনে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি।

নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ ও অভিমান

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮২ সাল থেকে একটানা বিধায়ক থাকা মানস ভুঁইয়ার নিজের গড় হিসেবে পরিচিত সবংয়েও এবার পরাজয় ঘটেছে। এই হারের নৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিলেও, দলের একাংশের অন্তর্ঘাত এবং শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। ক্ষোভের সুরে তিনি জানান, ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে জোট গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর সেই অবদানের কোনও স্বীকৃতি দেয়নি। এছাড়া, সবংয়ে তাঁরই প্রাক্তন ছায়াসঙ্গী অমল পান্ডার বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হওয়ার নেপথ্যে কলকাতার তৃণমূল ভবন এবং ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার এক শীর্ষ নেতার পরোক্ষ মদত ছিল বলে তিনি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।

শুভেন্দুর প্রশংসা এবং দলের ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া প্রসঙ্গে মানস ভুঁইয়া বলেন, “শুভেন্দু মেদিনীপুরের সন্তান, ওকে আমি বিলক্ষণ চিনি। মেদিনীপুরের একজন মানুষ হিসেবে শুভেন্দুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্ব অনুভব করছি।” একই সাথে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলায় শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং মানুষের চোখের জল মোছানোর আবেদন জানান তিনি। তবে হারের পর দলের একটি বড় অংশ যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলছে, তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে মানস বাবু মন্তব্য করেন যে, সাফল্যের কৃতিত্ব সবাই নিলেও ব্যর্থতার দায় একজনের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাম আমলেও যে সবং হাতছাড়া হয়নি, সেখানে এই পরাজয় এবং মেদিনীপুরের ঘরের ছেলের মুখ্যমন্ত্রীত্বকে স্বাগত জানানো আদতে রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক সমীকরণেরই ইঙ্গিত। দলের অন্দরের এই সমন্বয়হীনতা এবং হেভিওয়েট নেতাদের এমন ‘বেসুরো’ মন্তব্য আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *